Breaking News
Home / সারাদেশ / রংপুর / গাইবান্ধা / শীতের অপেক্ষায় গাইবান্ধার “হোসিয়ারি পল্লী” || শীত মৌসুমে তিনশ’ কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা

শীতের অপেক্ষায় গাইবান্ধার “হোসিয়ারি পল্লী” || শীত মৌসুমে তিনশ’ কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা

আল কাদরী কিবরীয়া সবুজ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা
গাইবান্ধার হোসিয়ারি পল্লীতে এখন যেন দম ফেলারও সময় নেই। শীতের বাজার ধরতে দিনরাত কাজ চলছে। এখানে বছরে প্রায় তিনশ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়। এর প্রায় পুরোটাই হয় শীতের সময়। এর মধ্যেই সারাদেশ থেকে মাল কিনতে আসছেন ব্যবসায়ীরা।

হোসিয়ারি পণ্যের এই জমজমাট ব্যবসা হয় গাইবান্ধার কোচাশহর এলাকায়। কোচাশহর কোনো শহর নয়। এটি গাইবান্ধার একটি গ্রাম। গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরের নিভৃত একটি পল্লী কোচাশহর। এর পাশাপাশি মহিমাগঞ্জ, শালমারা, শিবপুর ও গোবিন্দগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই গড়ে উঠেছে এই শীতবস্ত্র তৈরির হোসিয়ারি কারখানা। একেকটি কারখানায় ৫ থেকে ১৫০ জন পর্যন্ত শ্রমিক কাজ করেন। এসব কারখানায় দিন-রাত তৈরি হচ্ছে সোয়েটার, মাফলার, কার্ডিগান, মোজা, টুপি, বেবিসেটসহ বিভিন্ন রকমের শীতবস্ত্র। এখানকার তৈরি শীতবস্ত্র দেশের উৎপাদিত শীতবস্ত্রের তিন-চতুর্থাংশ।

শীত আসছে ব্যস্ত তাই কোচাশহর। হাজার হাজার শ্রমিক দিন-রাত কাজ করছেন। ফুরসত নেই কথা বলার। বন্ধ রয়েছে বিয়ে-সাদিসহ অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান ও আয়োজন। কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে অনেকেই সংসারে এনেছেন স্বচ্ছলতা। কেউ দক্ষ কারিগর হয়ে কারখানায় মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন, কেউ তৈরী শীতবস্ত্র সেলাই করছেন আর বয়স্ক ব্যক্তি ও মহিলারা সুতা তোলার কাজ করে কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পেয়েছেন। উদ্যোক্তা হিসেবে কারখানা স্থাপন করে এবং শীতবস্ত্রের ব্যবসা করে অনেকেই পাল্টে নিয়েছেন জীবনের গতিপথ। শীতকে সামনে রেখে এখানকার কারখানাগুলোতে তৈরী হচ্ছে নানা রকমের বাহারী শীতবস্ত্র। একেকটি কারখানায় প্রায় ৫শ’ ধরণের শীতবস্ত্র তৈরি হচ্ছে। তাদের তৈরি এসব পণ্য বাজারজাতের এলাকাতেই গড়ে উঠেছে নয়ারহাট নামের একটি শীতবস্ত্রের বাজার। শীত ঘনিয়ে আসায় এই হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়েছে। তারা এ বাজার থেকে নানা ডিজাইনের শীতবস্ত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এবারের শীতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার শীতবস্ত্র বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে।
স্বাধীনতার বেশ কয়েক বছর আগে জনৈক আবদুর রহিম কোচাশহর এলাকায় দুটো মেশিন দিয়ে মোজা তৈরির কাজ শুরু করেন। তার কারখানায় কাজ করতে করতে অনেকেই যন্ত্র কিনে নেমে পড়েন মোজা তৈরির কাজে। চাহিদার কারণে মোজার পাশাপাশি শীতের বিভিন্ন পোশাক তৈরির কাজ শুরু করেন এ এলাকার লোকজন। বর্তমানে শীতবস্ত্র তৈরির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের।

ব্যবসায়ী ও কারখানা মালিকরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, কাঁচামাল আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক, অপরিসর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ব্যাংক ঋণের চড়া সুদসহ নানামুখী সমস্যার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সম্ভাবনাময় এই শিল্পের অগ্রগতি।

কোচাশহরের হোসিয়ারী শিল্পের উন্নয়নে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রামকৃষ্ণ বর্মণ।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …