Breaking News
Home / খেলাধুলা / বোলিং নিয়েই যত দুর্ভাবনা

বোলিং নিয়েই যত দুর্ভাবনা

লারউড অ্যান্ড ভোস পাবে বসে এটা লেখার সময় বারবারই সকালে নটিংহামের টিম হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে আকরাম খানের আক্ষেপ কানে বাজছিল, ‘এই বিশ্বকাপে যদি তরুণ মাশরাফি খেলত, যদি শুরুর মুস্তাফিজকে পেতাম!

ডগলাস জার্ডিনের হাতে ছিল হ্যারল্ড লারউড এবং বিল ভোস। যাঁদের দিয়ে ‘লেগ সাইড’ বোলিং করিয়ে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের অস্ট্রেলিয়াকে ভড়কে দিয়েছিল ইংল্যান্ড। ‘ভদ্রলোকে’র খেলায় এমন দস্যুপনা সহ্য হয়নি অজিদের, ‘বডিলাইন সিরিজ’ নামাঙ্কিত হয়ে ১৯৩২-৩৩ সিরিজটা এখনো ধিক্কার জানায় ইংল্যান্ডকে, সে সিরিজের ইংলিশ অধিনায়কের নামের মাঝে ‘বাস্টার্ড’ জুড়েও দেওয়া হয়েছিল! আজ, ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের মাঝপথে লারউড, ভোস কিংবা জার্ডিনের জন্য মায়াই হচ্ছিল। কী অন্যায় করেছিলেন জার্ডিন? প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানকে ঘায়েল করতে শরীর সোজা বল করিয়েছিলেন লারউড আর ভোসকে দিয়ে, যা বেআইনি ছিল না মোটেও।

তিরিশের দশকের ন্যায়-অন্যায়বোধ এ যুগে কতটা মানানসই? এখনকার ক্রিকেটে বল টেম্পারিং কিংবা পিচ ম্যানিপুলেটিং করে কোনো ব্যক্তি বা দল ধরা পড়লে বাকিরা হাসে, ‘স্টুপিড, জানেও না কিভাবে লুকিয়ে কাজটা করতে হয়!’ ম্যাচ ফিক্সিং কিংবা স্পট ফিক্সিং যিনি করেন, তাঁর পক্ষ নেন অনেকে। অথচ বিল ভোস বেচারা, বডিলাইন বোলিং নিয়ে প্রবল চাপে কিংবা অভিশাপেই কিনা বোলিং ভুলে যেতে থাকেন ক্রমশ। নটিংহাম কাউন্টির হয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষ দিনগুলো কাটিয়েছেন হার্ড হিটিং ব্যাটসম্যান হিসেবে।

তবে নটিংহাম তাঁদের বুকে ধারণ করে আছে। ট্রেন্ট ব্রিজ মাঠের গা ঘেঁষেই লারউড অ্যান্ড ভোস, দুই কিংবদন্তির স্মারক। এই পাবের ব্যবসার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে দুই কিংবদন্তির নাম আছে বলেই সিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার পাউন্ড দেওয়া হয়েছে শতবর্ষী পাবটির সংস্কারকাজে।

কোনো একদিন মাশরাফি বিন মর্তুজা কিংবা সাকিব-তামিমের নামেও হয়তো এমন কোনো সরণি তৈরি হবে ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে। আপাতত আকরাম খান কিংবা ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অনুরক্তরা একজন লারউড কিংবা ভোসকে খুঁজছেন, যিনি অধিনায়কের নির্দেশে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানের নাভিশ্বাস তুলে দেবেন। একজন জেনুইন উইকেটটেকার, যাঁর প্রতিটি বলে নিজের উইকেট সামলাতেই ব্যস্ত থাকবেন জেসন রয় কিংবা এউইন মরগান। যুবক মাশরাফি তেমনই ছিলেন। মুস্তাফিজের শুরুটাও হয়েছিল প্রতি বলে বলে উইকেট প্রাপ্তির সম্ভাবনা জাগিয়ে। কিন্তু পঁয়ত্রিশের মাশরাফির ভরসা নির্দিষ্ট লাইন আর লেংথে বল করে ব্যাটসম্যানকে আটকে রাখা। মুস্তাফিজ অপেক্ষা করেন বলটা কখন ‘খড়খড়া’, মানে একটু রুক্ষ হবে, তখন যদি গ্রিপ করে! বোলিংয়ে একসময় ‘শিওর শট’ ছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু এখন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ক্রিজে এলে বোলিং মার্কে যেতে খুব বেশি আগ্রহ দেখান না তিনি। তাই বোলিং ইউনিট কথাটা খুব বেশি উচ্চারিত হয় বাংলাদেশ দলে। সবার চেষ্টা থাকে রান আটকানোর। আর এতে একসময় মারমুখী হবেন ব্যাটসম্যান এবং ভুলও করবেন।

তাই বাংলাদেশের দলীয় পরিকল্পনা হলো এভাবে চাপ দিয়ে শুরুর উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। এটা প্রতিপক্ষও মনে হয় ধরে ফেলেছে। তাই শুরুতে অকারণে ঝুঁকি না নিয়ে একটু রয়েসয়ে খেলে উতলা করে দিচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। তখন আর টিমওয়ার্কও কাজ করে না, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে করেওনি। বোলিং ইউনিট যখন চাপে পড়ে, তখন জস বাটলার কিংবা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এসে কয়েক ওভারেই ম্যাচটাকে বাংলাদেশ থেকে চাঁদের দূরত্বে নিয়ে যান। বিশ্বকাপে তা-ই হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ শেষ করেই তাই মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছেন, ‘ব্যাটিংটা আমাদের খুব ভালো হচ্ছে। কিন্তু আমরা ম্যাচের এক পর্যায়ে কয়েকটি ওভারে বেশি রান দিয়ে ফেলছি।’ আকরামও গতকাল একই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন, ‘এমনিতে সব ঠিকঠাকই হচ্ছে। কিন্তু কয়েকটি ওভারের ঝামেলায় ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ছি।’

কয়েকটি ওভার নিয়ে এমন দুঃখের মঞ্চ কিন্তু তৈরি হয়ে যাচ্ছে প্রথম ১০ ওভারেই। নতুন বলে উইকেট মিলছে না। সুযোগ তৈরি যে হচ্ছে না, তা নয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই তো সুযোগ এসেছিল সেঞ্চুরিয়ান ওয়ার্নারকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার। কিন্তু ক্যাচটি নিতে পারেননি ফিল্ডার। প্রতিপক্ষের সামর্থ্যের কারণে এ ভুলের চড়া মাসুলও গুনেছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের মাঠে বোলিং এবং ফিল্ডিংয়েই যা একটু পিছিয়ে বাংলাদেশ।

তবু তো বিশ্বকাপের মাঝপথে পয়েন্ট তালিকার পাঁচ নম্বরে আছে বাংলাদেশ। সেমিফাইনাল অনেক দূরে চলে গেলেও সেরা পাঁচ হাতছানি দিয়ে ডাকছে মাশরাফিদের। অবশ্য পয়েন্ট তালিকাই তো একমাত্র মানদণ্ড নয়। মাঠের ক্রিকেট যে অন্য উচ্চতায় তুলে নিয়েছে দলের ব্যাটিং ইউনিট, সেটি মানছে গোটা বিশ্ব। এ দলটির সরকারি অভিভাবক ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি। স্বভাবতই দলের নৈপুণ্য নিয়ে সে কমিটির প্রধান আকরাম খান সন্তুষ্টই, ‘নিঃসন্দেহে এটা আমাদের সেরা বিশ্বকাপ দল। আমি নিশ্চিত যে এরা সেরা রেজাল্ট করেই দেশে ফিরবে।’

তখনই ওই আক্ষেপ বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের পথ দেখানো অধিনায়ক আকরাম খানের, ‘যদি তরুণ মাশরাফি খেলত, যদি শুরুর মুস্তাফিজকে পেতাম!’

বিশ্বকাপ খেলতে আসা বাংলাদেশ দলের অবশ্য আর আক্ষেপের সময় নেই। গতকাল দুপুরেই উঠতে হয়েছে সাউদাম্পটনগামী বাসে। ২৪ তারিখ ওখানকার রোজবৌল মাঠেই যে মাশরাফিদের ‘জাজমেন্ট ডে’! প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, তাই চুন থেকে পান খসলেই ধেয়ে আসবে সমালোচনার বিষাক্ত তীর।

অবশ্য বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন জয়া আহসানের ক্রিকেট সামর্থ্য নিয়ে ট্রল করা জনতা কেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত ফল সহ্য করবেন?

Check Also

বাংলাদেশ স্পোর্টস এ্যাসোসিয়েশন(BSA) এর নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিনিধি বাংলাদেশ স্পোর্টস এ্যাসোসিয়েশন(BSA) এর নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। পটুয়াখালী গলাচিপার …