Breaking News
Home / কৃষি সংবাদ / গলাচিপায় হাইব্রিড জাতের লাল, হলুদ ও কমলা রঙের তরমুজ চাষে সাফল্য

গলাচিপায় হাইব্রিড জাতের লাল, হলুদ ও কমলা রঙের তরমুজ চাষে সাফল্য

জসিম উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীর গলাচিপায় প্রাকৃতিক দূর্যোগজনিত কারনে অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় এবার তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গলাচিপা কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তর অফিস সূত্রের ধারনা, এবার অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ার কারনে ৩০ শতাংশ তরমুজ নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, এত ক্ষতি সত্ত্বেও এবার বাম্পার ফলনের কারনে বিপুল লাভের মুখ দেখবে তরমুজ চাষীরা। এর মধ্যে প্রায় ১ শত ৫০ একর জমিতে হাইব্রিড জাতীয় বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন গলাচিপা উপজেলার অধিকাংশ কৃষকরা। তাদের ক্ষেতের তরমুজের কোনটার ভিতর হলুদ, লাল ও কমলা রঙের বর্ন হয়েছে। খেতে অত্যান্ত সু-স্বাদু। ফলন অন্যান্য জাতের তুলনায় বেশী।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, উপজেলায় এ বছর রেকর্ড পরিমান তরমুজের ফলন হয়েছে। আরও ১ মাস আগ থেকে আগাম আবাদ করা তরমুজ বাজারে আসলেও মধ্য আবাদি ও শেষ সময়ের আবাদি তরমুজ অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে বাজারে আসা সম্ভব হয় নি। কিন্তু দেরীতে হলেও এ এলাকায় নানান প্রজাতির উচ্চ ফলনশীল (উফশী) তরমুজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। এ সব তরমুজ ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, যশোর, বগুড়া সহ দেশের বিভিন্ন ছোট-বড় শহরে প্রতিদিন চালান হচ্ছে হাজার হাজার তরমুজ। এখন পর্যন্ত তরমুজের বাজার খুব চড়া। চাষীরা লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। গলাচিপার উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক পর্যায় উৎপাদন আশাব্যাঞ্জক ও মূল্যের কারনে কৃষকরা বেশ খুশি ছিল। কিন্তু হঠাৎ অতি বৃষ্টি হওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এ বছর উপজেলায় তরমুজ উৎপাদন ৫ হাজার টন এর বেশী হতে পারতো তা টাকার অঙ্কে ৮০০ কোটি টাকা দাঁড়াতে পারত। উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী ৭ হাজার ৬শত হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে যা গত বছরের চেয়ে কয়েকগুন বেশী। প্রতি হেক্টরে ৩৫ টন তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে ৩০ শতাংশ ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বীজ জনিত ও অতিবৃষ্টির কারনে ভাইরাসজনিত রোগ দেখা দেওয়ায় মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যাবহার করতে হচ্ছে। উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কৃষক তরমুজ চাষের সাথে জড়িত রয়েছে।
গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তরমুজ চাষীদের মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। অনেক চাষীর ক্ষেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ সব কিছুর মধ্যেও ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকার এবং মহাজনরা তরমুজ চাষ কবলিত এলাকায় ভীড় করছেন।
চরকাজল ইউনিয়নের মো.রত্তন বেপারী জানান, তিনি এবার ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তরমুজের চাষ করতে গিয়ে তার মোট খরচ হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা। তিনি আশা করেছিলেন, তরমুজ বাদ দিয়ে ২৩-২৪ লক্ষ টাকা লাভ করবেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে অসময়ে অধিক বৃষ্টি হওয়ায় তরমুজ গাছের অনেক ক্ষতি হয়েছে ফলে এখন লাভ হয়ত ৮-৯লক্ষ টাকা হতে পারে।
উপজেলায় আমখোলা, গোলখালী, ডাকুয়া, বকুল বাঁড়ীয়া, গলাচিপা পৌরসভা, কলাগাছিয়া, চিকনিকান্দি, গলাচিপা সদর, পানপট্টি, রতনদি-তালতলী, গজালিয়া, চরবিশ্বাস ও চরকাজল ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্রই তরমুজের ক্ষেত। কিছু কিছু ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কিছু ক্ষেতে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রায় সবাই তরমুজ কাটা আর মহাজনের হাতে তুলে দেওয়া সহ ক্ষেত পরিচর্যায় কীটনাশক ও সেচের কাজে ব্যস্ত।
চরকাজলের তরমুজ চাষী মো.রত্তন ব্যাপারীর ম্যাজিক- চরকাজল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড চর কপালবেরা এলাকার বৃদ্ধ রত্তন বেপারী। তিনি প্রতি বছরই কম-বেশী তরমুজ আবাদ করে থাকেন। তেঁতুলিয়া নদীর তীরে তিনি এবার ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তার তরমুজ ক্ষেত চাষীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মো. রত্তন বেপারী ২৫ একরের ভিতরে ১৫ একর জমিতে হাইব্রিড জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এ গুলোর ভেতরটা হলুদ, লাল ও কমলা রংয়ের হয়। খেতেও বেশ মিষ্টি। আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা যদি অনুকূলে থাকে, হাইব্রিড এ তরমুজ চাষে রত্তন বেপারী এবার প্রায় ১০- ১১ লক্ষ টাকার ওপর লাভ করতে পারবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ্ জানান, সামনে আর কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে গলাচিপা উপজেলায় যে তরমুজ ক্ষেত এখনও ভাল আছে, তাতেও কৃষকরা অনেক লাভবান হবে। আমন ধান উঠার সাথে সাথে যে সব রবি ফসল চাষ হয় তারমধ্যে তরমুজ ইতিমধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে। সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা গেলে তরমুজ চাষ করে কৃষক আরও বেশী লাভবান হতে পারতো বলে তিনি মনে করেন।

Check Also

গলাচিপায় কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুতে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জসিম উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার পটুয়াখালীর গলাচিপায় শিল্পী আক্তারের মৃত্যুতে গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা …