Breaking News
Home / আইন ও আদালত / দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনও উদ্ধার হয়নি আপহৃত স্কুল ছাত্রী
????????????????????????????????????

দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনও উদ্ধার হয়নি আপহৃত স্কুল ছাত্রী

জসিম উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীর গলাচিপায় অপহরণ স্কুল ছাত্রীর মা’র কান্নায় আঁকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। শেফালী রানী জানান, আমার মেয়ে অপহরন হওয়ার পর থেকে আমি মনকে আজও মানাতে পারিনি। আমার মেয়ে আছে না মরে গেছে তা জানি না। তিনি আরও জানান, অনেক জায়গায় আমার আত্মীয়-স্বজন পাঠিয়ে খাঁজ খবর নিয়েছি। কোন সন্ধান মেলেনি আমার মেয়ের। দুই সপ্তাহ হয়ে গেলেও সপ্তম শ্রেণির কিশোরীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার গলাচিপা থানায় কিশোরীর মাসি বাদি হয়ে একই এলাকার অহিদুল, শহিদুল, পারুল বেগম সহ ছয়জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলা করার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন মামলার বাদী ও কিশোরীটির পরিবার। অপহরণকারীরা অপহৃতের পরিবারকে থানায় দায়ের করা মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানা ধরণের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গলাচিপা থানা পুলিশ অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারের ও আসামী গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন। গলাচিপা থানা পুলিশ ও মামলার বাদি এবং অভিযোগের সূত্রে এসব তথ্য জানাগেছে।
মামলার বাদি ও কিশোরীর মাসি এবং মামলা সূত্রে জানাগেছে, অপহরণের এ ঘটনাটি ঘটেছে গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে গত ২২ মার্চ সন্ধ্যায়। এ সময় ওই কিশোরী তার এক ছোট বোনকে নিয়ে বাদুরা হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আসমা বেগমের বাদুরা বাজারের বাসা থেকে আমখোলা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামের মাসি বাড়ি যাচ্ছিল। স্থানীয় ডেকারেটর ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের বখাটে ছেলে মোটরসাইকেল ড্রাইভার অহিদুল ইসলাম (২১) তার সঙ্গীদের সহায়তায় ওই কিশোরীকে পথ থেকে তুলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ওই কিশোরীর বাড়ি বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার গাজীপুর বাজারে। সে ছোটবেলা থেকে ছৈলাবুনিয়া গ্রামে মৌসা (খালু) বাবুল চন্দ্র সিকদারের বাড়িতে থাকতো। সে বাদুরা হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ওই ছাত্রীর খালা (মাসি) অঞ্জু রানী অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় বখাটে অহিদুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে তার বোনের মেয়ে অর্থাৎ ওই কিশোরীকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে উত্যাক্ত করে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে। এনিয়ে অহিদুলের অভিভাবকদের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। বরং উল্টো উত্যাক্ত আরও রেড়েছে।
কিশোরীর মাসি আরো অভিযোগ করেন, অপহরণের পরদিনই তিনি গলাচিপা থানায় অবহিত করেছেন। এদিকে আসামির পরিবারের লোকজন থানায় দেওয়া মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রায় প্রতিদিন বাদিকে হুমকি দিচ্ছে। তার ধারণা আসামিরা অপহৃতকে ধর্ষণ, নির্যাতন কিংবা অন্যত্র পাচার করে দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আখতার মার্শ্বেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় অপহৃত কিশোরীর মাসি বাদি হয়ে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। আমরা বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফা অভিযান চালিয়েও ভিকটিম বা আসামীকে আটক করতে পারিনি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই অভিযান অব্যাহত রাখছি।’

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …