Breaking News
Home / কৃষি সংবাদ / গলাচিপায় লঘু চাপের প্রভাবে বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আলু-তরমুজ ক্ষেত লোকসানের আশঙ্কা কৃষকের

গলাচিপায় লঘু চাপের প্রভাবে বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আলু-তরমুজ ক্ষেত লোকসানের আশঙ্কা কৃষকের

জসিম উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার
উপকূলীয় এলাকায় চারদিন ধরে বয়ে যাওয়া লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে তিনশ হেক্টর জমির আলু ও সাত হাজার ছয়শত হেক্টর জমির তরমুজ ক্ষেত। এদিকে তলিয়ে যাওয়ার পরও আশা ছাড়েননি কৃষকরা। ফসলের ক্ষেতের গাছ বাঁচিয়ে রাখতে ক্ষেত থেকে পানি অপসারণ করতে আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে আলু ও তরমুজের গড়ে ১০ থেকে ১৫ ভাগ ক্ষতি হতে পারে। কৃষকরা যদি এখন ঠিকমতো ক্ষেতের পরিচর্যা করতে পারে মোটামুটিভাবে লোকসান পুষিয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গলাচিপার বিভিন্ন ইউনয়নের আবাদি জমি ঘুরে এসব তথ্য জানাগেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত সোমবার থেকে লঘু চাপের প্রভাবে ভারি বর্ষণে এবারও তলিয়ে গেছে কৃষকের আলু ও তরমুজ ক্ষেত। শেষ সময় প্রাকৃতিক এ দুর্যোগের কারণে অনেকটা দিশেহারা হয়ে গেছে কৃষকরা। এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল আটশ হেক্টর কিন্তু আলু চাষ হয়েছে মাত্র তিনশ হেক্টর জমিতে। সাধারণ কৃষকরা এর আগে পর পর তিন বছর ধরে অতিবৃষ্টি ও পোকার আক্রমণে লোকসান দিয়ে আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। গলাচিপা উপজেলার মুরাদ নগর গ্রামের আলু চাষী মুসবের হাওলাদার বলেন, ‘এ বছর দুই একর জমিতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ করে আলু চাষ করেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা ফসল ঘরে তুলতে পারতাম। কিন্তু হঠাৎ করে চারদিন ধরে মুসলধারে প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এখনও ক্ষেতেই আলু রয়ে গেছে। জানিনা আলুর কি অবস্থ্যা হবে।’
একই এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,‘ তিন একর জমিতে বিএডিসির সহযোগিতায় আলু চাষ করেছি। বৃষ্টিতে ক্ষেত তলিয়ে রয়েছে। এ অবস্থ্যা আর কয়েকদিন থাকলে আলুতে ফাটল ধরে পচন ধরবে। এ নিয়ে আমি পর পর তিনবার লোকসান দিয়েছি। এখন ভাবতে হবে আর আলু চাষ করবো কি-না। ক্ষেতে সেচ দিয়ে পানি সরানোর জন্য আপ্রান চেষ্টা করছি।’
এদিকে গলাচিপা ইটবাড়িয়া গ্রামের সোহাগ ও রাসেল জানান, এ বছর আড়াই একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এতে তাদের প্রায় দুই লাখ টাকার উপরে খরচ হয়েছে। এখনও ঠিক করে বলতে পারছি না কি পরিমাণ ক্ষতি হবে।’

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এআরএম সাইফুল্লাহ্ বলেন, ‘আমি বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখেছি। তরমুজের বেশি একটা ক্ষতি হবে না। নিচু জমিতে পানি জমে থাকলে সেখানে সমস্যা হবে। ফাংগাস আক্রমণ করে যাতে চারায় পচন বা ঢলে না পরে যায় সে জন্য কৃষককে ব্যবস্থ্যা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। অপর দিকে আলুতে এখন পচন দেখা না দিলেও ৪-৫ দিন পর হয়তো ১০ ভাগ ক্ষতি হতে পারে। তবে সব কিছুই বলা যাবে আগামী এক সপ্তাহ পর।

Check Also

গলাচিপায় কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুতে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জসিম উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার পটুয়াখালীর গলাচিপায় শিল্পী আক্তারের মৃত্যুতে গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা …