Breaking News
Home / সারাদেশ / রংপুর / গাইবান্ধা / গাইবান্ধায় সংস্কারের অভাবে জীর্ণ হয়ে পড়েছে শত বছরের পাবলিক লাইব্রেরী

গাইবান্ধায় সংস্কারের অভাবে জীর্ণ হয়ে পড়েছে শত বছরের পাবলিক লাইব্রেরী

আল কাদরী কিবরীয়া সবুজ, গাইবান্ধা সংবাদদাতা
নোনাধরা দেয়াল, কাঁচভাঙ্গা আলমারীতে জীর্ণ বই , স্যাতস্যাতে পরিবেশ। স্থানাভাবে মাটিতে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে আরও দু’হাজারেরও বেশী বই। আলমারীতে উঁই পোকার দখলে দুষ্প্রাপ্য বইগুলোর পাতা গুঁড়ো হয়ে পড়ে যাচ্ছে মাটিতে। উদ্যমী সংগঠকদের প্রয়াস আছে,আছে স্বতস্ফূর্ত কর্মকান্ড। কিন্তু সরকারি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তাদের পরিকল্পনাগুলো আলোর মুখ দেখছে না। এ নিয়ে তাদের পাশাপাশি গাইবান্ধার পাঠ অভ্যাসের সাথে জড়িতদের হতাশার শেষ নেই।

তারপরও বিকেল হতে না হতেও এখনও আগ্রহী পাঠক ছুটে আসেন সংবাদ পত্র, সাময়িকী কিংবা বই পড়তে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই পড়াশোনার পাট। কিন্তু সামর্থ্যরে অভাবেই তাদের সব চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে পাঠ্যসূচিকেন্দ্রিক বই নেই বললেই চলে। তাই শিক্ষার্থীরা এখানে আসার চাইতে পাশের দীঘির তীরে বসে গল্প করতে বেশি ভালবাসেন।

গাইবান্ধা সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের ছাত্রী রোজিনা আকতার বললেন, সবাই গল্প বা উপন্যাস পড়তে চায় না। কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রমভূক্ত বই থাকলে এবং নোট গ্রহণের পরিবেশ তৈরী করা গেলে সেখানে ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতি বাড়বে। আর পাবলিক লাইব্রেরীতে অনলাইনভিত্তিক পাঠেরও সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।

এখনকার পাঠকদের মধ্যে নতুন প্রজন্মকে তেমন একটা পাওয়া যাচ্ছে না, বললেন প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘকালের সদস্য রাজনীতিক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ওয়াজিউর রহমান রাফেল। তার কথা এ জন্য প্রয়োজন বই কেন্দ্রীক প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজনের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও চালাতে হবে প্রচারণা। তিনি বলেন, সবার আগে প্রয়োজন ভবনটি সংস্কার করে পুরনো দুস্প্রাপ্য বইগুলো রক্ষা করা এবং বই এর সংখ্যা বাড়িয়ে কিশোর তরুণদের আগ্রহী করে তোলা। এ জন্য সরকারি সাহেোয্যর প্রয়োজন। যেহেতু জেলা প্রশাসক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি তাই প্রশাসনিক উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।লাইব্রেরী সূত্র জানায়, জেলা শহরের একেবারে কেন্দ্রে দৃষ্টি নন্দন পৌর পার্ক ও দিঘীর গা ঘেঁষে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান। ১৯০৭ সালে তৎকালীন মহুকুমা শহরের কিছু জ্ঞান পিপাসু মানুষের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরী এন্ড ক্লাব। পৌর পার্ক এবং পাবলিক লাইব্রেরীর জন্য জমি দান করেন রংপুরের তাজহাটের জমিদার গোবিন্দলাল রায়। বই পড়ার পাশাপাশি নির্দোষ বিনোদনের জন্য লাইব্রেরীর সাথে ক্লাব যুক্ত করা হয়। এখনও সেই রেওয়াজ বজায় রেখেই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে লাইব্রেরীটিই মূল বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা। সেই সময়ে টিনশেডের ভবনটি এখনও আকার আকৃতিতে একই রকম রাখা হয়েছে। ঐতিহ্যপ্রিয় গাইবান্ধাবাসী আজও এই ধাঁচটিকেই পছন্দ করেন। কিছুদিন আগে পর্যন্ত লাইব্রেরীর হল রুমটিই সাংস্কৃতিক কর্মীদের নাটক বা সাংস্কৃতিক আয়োজনের একমাত্র মাধ্যম ছিল। এখন বিকেল থেকে রাত অবধি শহরের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ পাবলিক লাইব্রেরী সংলগ্ন স্থানেই আড্ডা ও আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন। লাইব্রেরীর সাথে যুক্ত ব্যক্তিরাই গাইবান্ধার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের প্রধান মানুষ।

কর্মকর্তারা জানান, এই লাইব্রেরীতে ১৭টি আলমারীতে দশ সহশ্রাধিক বই রয়েছে। এমন কিছু বই রয়েছে যেগুলো সম্ভবত অন্যকোথাও নেই। সময়ের পরিবর্তনের সাথে নতুন লেখকদের বইও আনা হয়। এখন স্থানাভাবে নতুন বই এনে পাঠ মিলনায়তনের পাশের একটি কক্ষে বাধ্য হয়ে রাখতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের জীবন ও সাধারণ সদস্য সংখ্যা যথাক্রমে ২৭৭ ও ২০৬জন। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি কমিটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনসহ নানা কারণে মেয়াদউত্তীর্ণ হলেও এখনও নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা যায় নি।

পাবলিক লাইব্রেরীর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জনি জানান, সংস্কারের অভাবে বই সংরক্ষন করা দুরুহ হয়ে পড়েছে। আলমারীর জীর্ণদশার কারণে ইঁদুরের উৎপাতে পুরোনো বইগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর আলমারী পরিস্কার করতে গিয়ে কিছুদিন আগে অন্তত: ১ মণ বই এর পাতার গুঁড়ো পেয়েছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি সংস্কৃতি ম›ত্রনালয় একটি সংস্কার প্রকল্প দিলেও অজ্ঞাতকারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। এ ছাড়া সরকারী অর্থ সহায়তাও মিলছে না। আয়ের উৎস লাইব্রেরীর হল রুম ভাড়া ও সদস্য চাঁদা। যা দিয়ে লাইব্রেরীয়ান ও কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য খরচ চালানোই মুশকিল। তারপরও জেলা প্রশাসন ও শুভাকাংখিদের সহায়তায় বেশকিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কিছু সংস্কারের ফলে পরিবেশ এখন অনেক ভাল।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা সম্পাদক রিকতু প্রসাদ বলেন, পাবলিক লাইব্রেরীর জায়গাটিতে বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মান করা গেলে অর্থ সংকটসহ সব সমস্যার সমাধান হবে। অন্যদিকে এখন স্থানীয় কলেজগুলোতে অনার্স চালু হওয়ায় রেফারেন্স সেকশন চালু করা গেলে শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরীতে আসতে আগ্রহী হবে। শিশু কর্ণারও এখন সময়ের দাবী।

গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরীর সহসভাপতি পৌর মেয়র শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন বলেন, একসময় আমাদের শিক্ষানুরাগী পূর্বসূরীরা এই পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেন। এটি আমাদের প্রাণের আবেগের সাথে জড়িত। বর্তমান সরকার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে বেগবান করতে নানা কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন। গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরীকে সময়উপযোগী ও আধুনিকায়নের জন্য সব ধরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …