Breaking News
Home / কৃষি সংবাদ / রাঙ্গাবালীতে আমনের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক

রাঙ্গাবালীতে আমনের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক

আল আমিন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
মাঠজুড়ে সোনালী ধান। আর দক্ষিণা বাতাসে দোলানো শীষ। ফলসের এমন মাঠ দেখে কৃষকের মুখে হাঁসি ফুঁটেছে। বেড়েছে তাদের ব্যস্ততা। তবে বাজারদর মন্দা হওয়ায় তাদের এই হাঁসি ম্লান হয়েছে। বাজারে ধানের যে দাম তাতে শ্রমমূল্য কিংবা লাভতো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। তাই দুশ্চিতায় পড়েছে কৃষক। তবুও বুকভরা আশা নিয়ে মাঠ থেকে ফসল গোলায় তুলতে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণীরা। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন আমন ধানের ক্ষেত ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৩৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে উফশী ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ১৪ হাজার হেক্টর। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৪.৫ টন থেকে ৫ টন ধান উৎপাদন হয়েছে। ধানের দাম কম থাকার বিষয়ে কৃষি বিভাগের দাবি, খুব শিগগরই সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হবে। তাহলে ধানের দাম বেড়ে যাবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার রাঙ্গাবালী, ছোটবাইশদিয়া, বড়বাইশদিয়া, চরমোন্তাজ ও চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে প্রত্যাশার চেয়ে আমনের ভালো ফলন হয়েছে। মাঠভরা পাকা সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা কৃষক পরিবার। উৎসবমুখর পরিবেশে মাঠে চলছে ধানা কাটা। আর আঁটি বেঁধে বাড়ির উঠান কিংবা নির্ধারিত জায়গায় নিয়ে যাওয়া। সেখানে মড়াই করে রোদে শুকানো। পরে গোলায় তোলা। এসব কাজে কৃষকের পাশাপাশি কৃষাণীরাও ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে বর্তমানে ধানের বাজারদর কম থাকায় তাদের এই শ্রম বৃথা হয়ে জাবেনাতো, এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কৃষক পরিবারের মুখে।
কথায় হয় উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের উত্তর চতলাখালী গ্রামের কৃষক বাদলের সঙ্গে। তিনি ৪-৫জন কৃষকের সঙ্গে ধান কাটতে ব্যস্ত ছিল। কাজের ফাঁকে বলেন, এ বছর আমন ধান ভালো হইছে। কিন্তু বাজারে দাম নাই। শেষ পর্যন্ত যদি দাম না উঠে (বাড়ে) তাহলে লোকসানতো হবেই, কষ্টও যাবে বৃথা। রেজাইলের পাশের ক্ষেতে নিজের জমির ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক আদম বলেন, এক মণ ধান উৎপাদনের বীজ, কীটনাশক, ঔষধসহ যাবতীয় খরচ থেকে শুরু করে বাজারজাত করতে ৬০০-১০০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু বর্তমানে এক মণ ধানের বাজারদর ৫৫০-৫৮০ টাকা। তাহলে ধান লাগাইয়া লাভ কি? যা খরচ হয়, তাইতো ওঠে না।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, মাঠের ফলন দেখে কৃষকরা খুশি হয়েছিল। কিন্তু বাজারদর দেখে ততোটাই নাখোশ হয়েছে। অনেক কৃষক ঋণ কিংবা ধারদেনা করে ধান আবাদ করেছে। সেই দেনার বোঝা হালকা করতে কম দামেই ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কিন্তু সরকার ধান কেনা শুরু করলে এ সংকট নিরসন হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দিনমজুরদের সঙ্গে ধান আঁটি বাঁধায় ব্যস্ত উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের কৃষক নাজির হাওলাদার বলেন, নিজের সঞ্চয় ও ঋণ করে আড়াই কানি জমিতে আমন দিছি। কিন্তু বাজারে ধানের দাম নাই। ৬০০টাকা রোজে চারজন দিনমজুর ধান কাটে। দিনমজুরের টাকা আর ঋণের কিস্তি দিতে এখন কম দামেই ধান বেচতে হইবে, উপায় নাই। প্রেত্যেকবার এইভাবে লোকসান হলে ধান দেওয়া বাদ দিয়ে অন্য কাজ করবে মানুষ। এসময় ওই গ্রামের আরেক কৃষক রেজাউল হোসেন বলেন, সবাই লাভের আশায়ই চাষবাস করে। আমি ৩০ কড়া জমিতে ধান লাগাইছি। কিন্তু এহন (এখন) দেখছি, লাভতো দূরের কথা চালানই (মূলধন) শেষ।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো.আব্দুল মন্নান বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং কৃষি বিভাগের তৎপরতা থাকায় এ মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের দাম কম থাকায় আমরাও চিন্তিত। তবে দুই এক সপ্তাহের মধ্যেই ধানের দাম বেড়ে যাবে। খুব শিগগরই সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হয়ে যাবে।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …