Breaking News
Home / সারাদেশ / খুলনা / সাতক্ষীরা / প্রলয়ংকারী সিডর আঘাতের ১১ বছর পার,তাদের খোঁজ এখন কেউ রাখে না

প্রলয়ংকারী সিডর আঘাতের ১১ বছর পার,তাদের খোঁজ এখন কেউ রাখে না

এসএম হাসান আলী বাচ্চু,তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদতা:
তালা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর। লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় জনপদ। এর আঘাতে নিশ্চিহ্ন হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। গৃহহারা হয়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। সমুদ্রে মাছধরারত বহু জেলের আর স্বজনদের কাছে ফেরা হয়নি। ১১বছর আগে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ৭ জন লোক নিহত হয়, আহত হয় শতাধিক লোক। দুবলারচর ও আলোরকোল নামক স্থানে মাছ ধরতে গিয়ে নিহত হয় তালা উপজেলার মালোপাড়ার গৌর হালদার (৪৮), অজিত হালদার (৪৩) এবং বাউখোলা গ্রামের বাসিন্দা গোবিন্দ বিশ্বাস (৫৮)। এছাড়া উপজেলার জাতপুর গ্রামের নূর বেগম (৬০), জালালপুরের ফেলি বিবি (৫৮), টিকারামপুর গ্রামের হাসান গাজী (৫০) এবং মাগুরা বাজারে অজ্ঞাত ব্যক্তি (২৫)। নিহত পরিবারগুলোর অনেকেই না খেয়ে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কোন মতে দিন কাটাচ্ছে। তাদের খোঁজ এখন কেউ রাখে না। পরিবারগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

সিডরে নিহত তালা সদরের মালোপাড়া অজিত হালদারের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী রিতা হালদার জানায়, ‘এই দিনে দানব সিডর তার সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অজিত হালদারকে কেড়ে নেয়। ঐ সময় সরকারি ও বেসরকারিভাবে নগদ টাকা এবং সাহায্য পেলেও এখন তাদের খোঁজ-খবর কেউ নেয় না। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তিন বেলা দুমুঠো ভাত ও জোটেনা। বর্তমানে আমি গ্রামে ফেরি করে মাছ বিক্রির পাশাপাশি অন্যের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে কোন মতে দু;বেলা ভাতের সন্ধানে আছি। আমার বৃদ্ধা মা উর্মিলা অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে পড়ে আছে এখন সে মৃত্যু পথযাত্রী। একমাত্র মেয়ে সুপ্রিয়া হালদারের বিয়ে দেয়া হলেও সংসার চালাতে স্বামীর সাথে দিন মজুরের কাজ করে। বড় ছেলে কলেজে পড়–য়া বিপ্লব হালদারের পড়াশুনার খরচ যোগাতে সাগরে মাছ ধরতে গেছে। ১০ বছরের শিশুপুত্র কৃষ্ণ হালদার অসুস্থ অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। সে বর্তমানে প্রাইমারী স্কুলে ৩য় শ্রেণির ছাত্র। আমার স্বামীর রেখে যাওয়া ২০ হাজার টাকা ঋণের বোঝার পাশাপশি বর্তমানে ৪/৫ টা এনজিও থেকে নেয়া ঋণের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে নিদারুণ দিনতিপাত করছি। এখন আমাদের খোঁজ কেউ নেয় না !’

এদিকে সিডরে নিহত একই গ্রামের গৌর হালদারের স্ত্রী আরতি হালদার জানান, তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর স্বামীর প্রায় ২ লক্ষ টাকা ধার-দেনা শোধ করার এখনো শোধ করতে পারিনি । তিন ছেলে আবার ও সাগরে মাছ ধরতে গেছে। বর্তমানে তাদের সংসার চালানো খুবই দুরবস্থা হয়ে পড়েছে। ঐ সময় কিছু সহায়তা পেলেও বর্তমানে আমাদের খোঁজ কেউ রাখে না ।

সিডরে নিহত উপজেলার বাউখোলা গ্রামের গোবিন্দ বিশ্বাসের স্ত্রী জানান, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে খুবই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে নেওয়া লক্ষাধিক টাকা এখনও পরিশোধ করতে পারেনি। ঘূর্ণিঝড় সিডর স্বামীকে কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি আমার সংসারও তছনছ করে দিয়েছে। আমরা এখন সবকিছু হারিয়ে পথে বসেছি। একই রকম আক্ষেপ করেন সিডরের আঘাতে নিহত অন্যান্য পরিবারগুলো। কিছু পরিবার সরকারের পক্ষ থেকে ভিজিএফ এবং বিধবা ভাতার কার্ড পেলেও অনেকের ভাগ্যে তা ও জোটেনি।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …