Breaking News
Home / সারাদেশ / রংপুর / গাইবান্ধা / জাতীয় নির্বাচনের হালচাল : ৩১-গাইবান্ধা-৩ জাপার দূর্গে আওয়ামীলীগ || দখলে নিতে চায় বিএনপি

জাতীয় নির্বাচনের হালচাল : ৩১-গাইবান্ধা-৩ জাপার দূর্গে আওয়ামীলীগ || দখলে নিতে চায় বিএনপি

আল কাদরী কিবরীয়া সবুজ, গাইবান্ধা সংবাদদাতা
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যান্য এলাকার ন্যায় গাইবান্ধা-৩ আসনেও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা থেমে নেই। জোট-মহাজোটসহ সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের সমর্থিত কর্মীবহর নিয়ে নেমে পড়েছেন ভোট প্রার্থনায়। ৩১, গাইবান্ধা-৩ নির্বাচনী আসন পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। পলাশবাড়ী ৯ এবং সাদুল্লাপুরে ১১সহ ২০ ইউনিয়ন নিয়ে এ নির্বাচনী আসন।
রাজনৈতিক হিসাব-নিকেশে আসনটি বরাবরই দেশের অন্যান্য আসনের চেয়ে অন্যতম আলোচিত। আসনটি’তে অতীতের যে কোন সময়ের তূলনায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা অধিক। দলীয় মেরুকরণ, প্রার্থীদের ব্যক্তি পরিচয় ও রাজনৈতিক অর্জন সবকিছুই যেন ভিন্ন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের স্ব-স্ব সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী আসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্ট ছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ, ছোট-খাটো বৈঠকসহ ভোটারদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত অব্যাহত রেখেছেন। প্রার্থীরা তাদের অতীত-বর্তমান, ব্যক্তি ইমেজ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দুরদর্শিতা তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করছেন। এ আসনে বরাবরই একক, দল বা জোট-মহাজোটের প্রার্থীই হোন না কেন তাদের অধিকাংশরই পরিচিতি অতিথি বা হাইব্রিড। তৃণমুল পর্যায়ে রাজনৈতিক অর্জন না থাকলেও শুধুমাত্র অর্থের দৌরাত্মেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়েছেন। এবারো হাইব্রিড প্রার্থীদের আনা গোনাই বেশি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ও সংরক্ষিত মহিলা এমপিসহ প্রায় ২০ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের ৪, জাপা ৩, জাসদ ১ ও জামায়াত ২ জনসহ মোট ৩০ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠ পর্যায়ে কম-বেশি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের সব আনুষ্ঠানিকতা যতই ঘনিয়ে আসছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ততই হয়ে উঠছে সরগরম। শেষ পর্যায়ে মনোনয়ন চুড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের প্রচারণার হাল ছাড়ছেন না। প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নের আশায় পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্খিসহ নির্বাচনী প্রচারণায় লিপ্ত থেকে ভোটার নারী-পুরুষের সাথে শুধু সৌজন্য সাক্ষাত এবং কুশল বিনিময়ের মধ্যেই সিমাবদ্ধই থাকছেন না। আর্থিক দান-দক্ষিণা ও সাহায্য সহযোগিতার হাত কিছুটা হলেও প্রসারিত করেছেন। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে একই সাথে জেলা ও বিভাগীয় ছাড়াও কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের সাথে লবিংসহ নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এ আসনে বর্তমান এমপি ডা. মো. ইউনুস আলী সরকার আবারো মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর ভাগ্যে মনোনয়নের শেষ সিঁকে ছিড়বে কিনা দলীয় সমর্থিত সাধারণ নেতাকর্মী, রাজনৈদিক বোদ্ধা ছাড়াও সচেতন ভোটাররা এ নিয়ে নানা দ্বিধা-দন্ডসহ রীতিমত সন্ধিহান পড়েছেন।

তবে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর সংখ্যার বহর যতই দীর্ঘ হোক না কেন জোট-মহাজোট ও ২০ দলীয় জোটসহ সবমিলিয়ে দলীয় স্ব-স্ব অবস্থানে প্রথম সারির হেভিওয়েট দুই থেকে তিনজন প্রার্থীর মধ্যেই চুড়ান্ত মনোনয়নের সীমাবদ্ধতা থাকবে বলে জনমত জড়িপে জানা যায়। স্বাধীনতা পরবর্তী থেকে দশম জাতীয় সংসদ পর্যন্ত এ আসনটি পরপর তিনবার আওয়ামী লীগের কব্জায় ছিল। একবার ছিল বিএনপি এবং ছয়বার ছিল জাতীয়পার্টির (এরশাদ) দখলে। আসনটি এক সময় জাতীয়পার্টির দূর্গ বলে পরিচিতি লাভ করেছিল। বর্তমান দোদুল্যমান রাজনৈতিক দোলাচালের পালে একসময়ের জাপার দূর্গে এ আনসটি যেন আওয়ামী লীগ পুনরুদ্ধার করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক মেরুকরণে বিএনপি নতুন করে হানা দিতে চায়। এদিকে, বিএনপি-জামায়াতের চলমান রাজনৈতিক হিসেব-নিকাশে আসনটি যেন বিষফোঁড়ায় রূপ নিয়েছে।অপরদিকে, মহাজোটভূক্ত আওয়ামী লীগ এবং জাতীয়পার্টির মধ্যে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে প্রার্থীজটের বিষয়টি উল্টোচিত্র হিসেবে দেখা দিয়েছে। মহাজোটের শরিকদল জাতীয়পার্টি (এরশাদ) এ আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবে এলাকার সচেতন রাজনৈতিক বোদ্ধাদের অভিমতে জাতীয়পার্টির সেই সোনালী অতীতের রমরমা অবস্থার অনেকটা পরিবর্তন ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ মহলের অভিমত এবারো এ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘরে যাবে। জোট-মহাজোটের সর্বশেষ হিসাব-নিকেশ তথা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীসহ কারা নির্বাচনে অংশ নিবে কিংবা কারা অংশ নিবে না এ পরিসংখ্যান এখনো পরিস্কার নয়। তদুপরি বহুলসংখ্যক প্রার্থী তাদের প্রচার-প্রচারণা ক্রমেই বাড়িয়ে দিচ্ছেন। প্রার্থীরা পরস্পর নির্বাচনী প্রচারণার কর্মসূচি দেখে-শুনে ও বুঝে অপর প্রার্থী তার কর্মসূচি প্রনণয়ন করছেন। দলীয় হাইকমান্ডের সমর্থন পেতে ফোনালাপসহ ঘন-ঘন ছুঁটছেন রাজধানী ঢাকায়। প্রার্থীদের স্ব-স্ব ভাস্যমতে সবারই একই সুরে একই কথা তাঁর মনোনয়ন নিশ্চিত। তবে মনোনয়ন চুড়ান্তের বিষয়টি এখনো ধুম্রজাল। মহাজোটভূক্ত জাতীয়পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কর্তৃক একাধিকবার ঘোষিত একক মনোনিত প্রার্থী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী। তাঁর বাবা স্থানীয় জাপা’র সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ওসমান গণি দুলু। ব্যারিস্টার শিল্পী কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় বেশির ভাগ সময়ই রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করেন। তবে নিশ্চিত মনোনয়ন এবং শেষ পর্যন্ত এমপি নির্বাচিত হলে তিনি বেশির ভাগ সময়ই ঢাকায় নয় এলাকায় অবস্থান করবেন। ব্যারিস্টার শিল্পী ছাড়াও জাতীয়পার্টির আরো দুইজন প্রার্থী রয়েছেন তারা হলেন, এরশাদ সমর্থক পরিষদ আলহাজ্ব এ্যাড. মমতাজ উদ্দিন ও জেলা জাতীয়পার্টির সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুরুল হক সাচ্ছা। এরমধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সকল মামলার কৌসুলী এ্যাড. মমতাজ উদ্দীন (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) আসনে ব্যাপক গণসংযোগ এবং জাতীয় পার্টি থেকে বঞ্চিত ত্যাগী নেতা কর্মীদের নিয়ে দল পরিচালনা সহ মাঠ পর্যায়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যান্যরা হচ্ছেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এ্যাড. উম্মে কুলসুম

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …