Breaking News
Home / অর্থনীতি / উপকূলে ডিমওয়ালা মা ইলিশের ছড়াছড়ি

উপকূলে ডিমওয়ালা মা ইলিশের ছড়াছড়ি

আল আমিন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী ) প্রতিনিধি
প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। এই নিষেধাজ্ঞা এক সপ্তাহ আগেই উঠে গেছে। তাই পুনরায় জেলেদের ইলিশ ধরা শুরু। তবে এখনও জেলেদের জালে ডিমওয়ালা মা ইলিশ ধরা পড়ছে। সরেজমিনে উপকূলের পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে। মৎস্য বিভাগের দাবি, ইলিশের প্রজননের জন্য এ নিষেধাজ্ঞার সময় সঠিক ছিল। এ সময়ই বেশি পরিমাণ ইলিশ ডিম ছেড়েছে। কিন্তু এবিষয়ে জেলেদের কিছুটা দ্বিমত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার বেকারত্ব সময় কাটিয়ে পুনরায় বুকভরা আশা নিয়ে জেলেরা এক সপ্তাহ আগে উপজেলার আগুনমুখা, রামনাবাদ, দারচিরা ও বুড়াগৌরাঙ্গ নামক নদ-নদীতে ইলিশ শিকারে নেমেছেন। প্রতিদিনই জেলেদের জালে কমবেশি-বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। তবে জেলেদের জালে ধরা পড়া বেশিরভাগ ইলিশের পেটে এখনও ডিম ঠাসা রয়েছে। বিভিন্ন হাট-বাজারে এসব ইলিশ বিক্রিও হচ্ছে। এ বিষয়টি যাচাই করতে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের কয়েকটি মা ইলিশ এ প্রতিবেদক ক্রয় করে কেটে পেটে পরিপক্ক ডিম দেখতে পায়। বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত জেলে হানিফ চৌকিদার বলেন, ‘আরও ১০দিন অবরোধ (নিষেধাজ্ঞা) থাকলেই মাছ ঠিকমত ডিম ছাড়তে পারতে। এবারের অবরোধ আগাম হয়ে গেছে। আরেক জেলে কাওসার বলেন, ‘প্রতিটি মাছের পেটে ডিম আছে, প্রচুর ডিম।
সচেতন জেলেদের দাবি, এবার প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মা ইলিশ রক্ষায় গত ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তখন ডিম পরিপক্ক না হওয়ায় অনেক মাছে ডিম ছাড়তে পারেনি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার যখন সময় শেষ, তখনও জালে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ছে। সেই মাছ বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন কমতে পারে বলে ধারণা। তাই এ নিষেধাজ্ঞার সময় পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন তারা। উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরম-ল গ্রামের জেলে সিপন মিয়া বলেন, ‘নদীতে যাইয়া (গিয়ে) যেসব ইলিশ পাই। সব মাছের প্যাডে (পেটে) ডিম। এহনো (এখনও) অনেক মাছ ডিম ছাড়তে পারে নাই। আর কিছুদিন পর ডিম ছাড়বে। কিন্তু এহনতো অবরোধ (নিষেধাজ্ঞা) নাই। একই এলাকার জেলে মনির হোসেন বলেন, এবার অবরোধ আগে ওইয়া গেছে। একটু পিছাইয়া দিলে সব মাছগুলো ডিম ছাড়তে পারতো। বেশি মাছে ডিম ছাড়লে, নদীতেও বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিমওয়ালা ইলিশ এখনও থাকবে। ৩-৫ মাস পরেও থাকবে। যেই পরিমাণ ইলিশ ডিম ছাড়া দরকার, তা হয়ে গেছে। এ অবরোধে আমরা জেলেদেরকে জাল ফেলা থেকে বিরত রাখতে পেরেছি। যেই পরিমাণে ইলিশ ডিম দিয়েছে, দিয়ে আবার সাগরে চলে গেছে। যেইটায় ডিম ছাড়েনি, সেইটা আবার সাগর থেকে উঠে আসবে। তিনি আরও বলেন, আমরা বলছি না যে, ওইসময় (নিষেধাজ্ঞাকালীন) ইলিশে সব ডিম ছাড়বে। ওইসময়টা হলো বেশি পরিমাণ ডিম ছাড়বে। যেই বেশি পরিমাণটা ছাড়া দরকার ছিলো, আমার মনেহয় তা ছাড়া হয়ে গেছে। এটা আরও একমাস পরে বোঝা যাবে। মা ইলিশের প্রজননের সময়টা মৎস্য অধিদপ্তর মনে করেন, সঠিক ছিল। যেই পরিমাণ মা ইলিশ ডিম ছাড়া দরকার ছিল। আমরা আশা করি, তার চাইতে বেশি ডিম ছেড়েছে। ইলিশ সারা বছরই ডিম ছাড়ে। কিন্তু অবরোধের সময়টায় বেশি ডিম ছাড়ে।
এ ব্যাপারে গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ-বাংলাদেশ প্রকল্পের টিম লিডার প্রফেসর ড. মো. আব্দুল ওহাব বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ প্রকল্প দ্বারা সারাবছর ব্যাপী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই সময়টা নির্ধারণ করা হয়েছে। এইসময়টির ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই। তবে ২২ দিনের চাইতে বেশি সময় ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে কিনা তা প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। এটা বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে হবে। বিষয়টি বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত, বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এর ওপর তথ্য সংযোজন পর্যালোচনা অব্যাহত থাকবে।

Check Also

গলাচিপায় কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুতে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জসিম উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার পটুয়াখালীর গলাচিপায় শিল্পী আক্তারের মৃত্যুতে গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা …