Breaking News
Home / আইন ও আদালত / পলাশবাড়ী উপজেলার সুদান প্রবাসী জাফিরুলের সন্ধান চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা পরিবারের

পলাশবাড়ী উপজেলার সুদান প্রবাসী জাফিরুলের সন্ধান চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা পরিবারের

আল কাদরী কিবরীয়া সবুজ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার সাকোয়া গ্রামের অসহায় পরিবারের স্ত্রী তার স্বামী হারিয়েছে, সন্তান হারিয়েছে বাবা, বৃদ্ধ পিতা মাতা সন্তান হারিয়ে এখন পথচেয়ে বসে আছে বৃদ্ধ পিতা মাতা। দীর্ঘ ৪ বছর হলো সুদানে যাওয়ায় পর হতে এ পর্যন্ত তারা নিজের স্বজন জাফিরুল ইসলামের কোন খোঁজ পাচ্ছে না বরং একদিকে স্বজন হারানোর শোক অন্যদিকে মামলা পিছে দৌড়াতে প্রতিনিয়ত হয়রানী হচ্ছে স্বজন হারানো একটি অসহায় পরিবার। বাংলাদেশসরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট নিজেদের স্বজনকে ফিরে পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে স্বজনের সন্ধান চেয়েছে অসহায় পরিবারটি।

এপরিবারের স্ত্রী চায় স্বামীকে, সন্তান চায় বাবাকে বৃদ্ধ পিতা মাতা চেয়েছেন তার সন্তানকে।
পলাশবাড়ী উপজেলার সাকোয়া গ্রামের দুলা ব্যাপারীর ছেলে জাফিরুল ইসলাম গত ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে সুদানের পথে পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর হলো নিখোজ রয়েছে সে। নিখোজ জাফিরুলের এক ছেলে এক মেয়ে স্ত্রী পিতা মাতা মিলে তার সংসার । মেয়ে জাফরিনা খাতুন (১৫) সাতারপাড়া বিইউ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রী ও ছেলে রাকিবুল হাসান রুকন (১৩) মাঠেরহাট মাদ্রাসার ৮ম শ্রেনীর ছাত্র।
সুদান যাওয়া পর প্রবাসী জাফিরুল একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে অপহরণ হয় নিখোজের পরবর্তী এ পরিবারটি জাফিরুলের সন্ধানে তারা এচক্রটির হাতে দুই লাখ টাকা দেওয়ার পরেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি জাফিরুলকে। বরং মুক্তিপনের টাকাটি গচ্ছা যায়। এমতবস্থায় জাফিরুলের স্ত্রী রোজিনা বেগম গত ৯-৯-১৬ তারিখে পলাশবাড়ী থানায় ২০১০ সালের মানবপাচার প্রতিরোধ আইন ;পরস্পর যোগসাযসে সংগবদ্ধ গোষ্টি কর্তৃক মানব পাচার করে শ্রম শোষন ও ষড়যন্ত্রের অপরাধে একটি মামলা দায়ের করে পলাশবাড়ী থানার মামলা নং ১০, তাং-৯-৯-১৬। এ মামলায় একজন কে গ্রেফতার করা হলেও অন্যান্য আসামীদের আজও গ্রেফতার করা হয়নি। গ্রেফতারকৃত আসামী জামিনে মুক্ত হয়ে বের হলেও জাফিরুলের খোঁজ পায়নি অসহায় পরিবারটি। দীর্ঘদিনেও পরিবারটি সন্ধান না পেয়ে অবশেষে সাংবাদিকদরে মাধ্যমে সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট হারানো স্বজনকে ফিরে পেতে সহযোগীতা ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিখোজ জাফিরুলের স্ত্রী রোজিনা বেগম জানান, আজ ৪ বছর হলো স্বামীকে দেখতে পাইনা স্বামীর সন্ধানে বহু জনের দ্বারে দ্বারে ঘরেও আজ স্বামীর সন্ধান পাইপ্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মেয়ে জাফরিনা খাতুন বাবা সন্ধান চাইতে বাবা কথা বলতে চোখের জল আর আমাতে পারছে না চিৎকরে কান্না করছেন আর বলছে আমার বাবা ফিরে চাই, মাতা সুপিয়া বেগম বলেন মরার আগে ছেলের মুখটা একবার দেখে মরে যেতে চাই, পিতা দুলা ব্যাপারী বলেন আমার ছেলের কি অপরাধ কেন তাকে আমরা পাই না সে কোথায় আছে কেম আছে তার খোজ কি আমরা পাবো না এখনো তার পথচেয়ে চেয়ে আছি। কেউ কি আমাদের সন্তানের সন্ধানে এগিয়ে আসবে না আমাদের সহায়তা করবেনা। প্রতিবেশীরা জানান জাফিরুল খুব ভালো মানুষ ছিলো সে নিখোজ হওয়ার পর হতে পরিবারটি দূংখে কষ্টে অনাহারে দিনাতিপাত করছে। অসহায় পরিবারটি একবেলা খায় তো আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। নিখোজ জাফিরুল পরিবারটির একমাত্র সম্বল।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …