Breaking News
Home / সারাদেশ / রংপুর / গাইবান্ধা / গাইবান্ধা-3 (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) নির্বাচনী আসনে বাইসাইকেল ও হ্যান্ডমাইক নিয়ে গনসংযোগ করছেন স্কুল শিক্ষক আজিজার রহমান

গাইবান্ধা-3 (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) নির্বাচনী আসনে বাইসাইকেল ও হ্যান্ডমাইক নিয়ে গনসংযোগ করছেন স্কুল শিক্ষক আজিজার রহমান

আল কাদরী কিবরীয়া সবুজ, গাইবান্ধা সংবাদদাতা
“বেশি টাকা খরচ করে প্রচারণা করে ক্ষমতায় গেলে ঐ টাকা তুলতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে”,তাই আমি কম খরচে কাধে হ্যান্ড মাইক ঝুলিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি। যেনো আমাকে আপনাদের কাছ থেকে পালাতে না হয়। আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকতে চাই ।

কথাগুলো রাস্তার পাশে হ্যান্ড মাইকে বলছিলেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) আসনের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর হয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মোহাম্মাদ আজিজার রহমান (বিএসসি) স্কুল শিক্ষক। দুর হতে তার বক্তব্যেই তার পরিচিতি পেলাম। লোকমুখে ও ফেসবুকের কল্যাণে তাকে আমার জানা। এগিয়ে গিয়ে তার গোটা বক্তব্য শ্রবণ করিলাম। পরিস্কার ভাষায় অকপটে বললেন তার প্রচারণা দেশ ও জাতীয় উন্নয়ন ও বর্তমান সরকারের কার্যক্রম এবং আওয়ামীলীগ থেকে মনোনীত ও এমপি হলে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে যাচ্ছেন তিনি। যথা সময়ে বক্তব্য শেষ হওয়ার পর একান্তে তাহার কাছে কয়েক মিনিট চেয়ে নিলাম, সম্মতি পাওয়ায় একজায়গায় পাশাপাশি বসে পরলাম দু’জন। দোকানিকে না বলা সত্তেও তার সামনে চা নিয়ে এসে বল্লো , আমার তরফ থেকে চা। কোন বাক্যব্যায় না করে তা গ্রহণ করলেন তিনি। কথোপথনে জানতে পারলাম এমন পরিবেশ তৈরি হয় প্রতি পথসভায়। সারাদিন নির্বাচনী প্রচারণায় দুপুরের খাবার অনেক সময় অতি সাধারণ খাবার হোটেলে খেয়ে নেন। বর্তমানের এ সময়টা নির্বাচনী প্রাচরের সময় তাই বেশি বেশি পথসভা করতে হচ্ছে। এভাবে বক্তব্য প্রদানের মধ্যদিয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে এ আসনটির দুই উপজেলার মোট ২০ টি ইউনিয়নেই তাকে ছুটতে হচ্ছে । গত ২০১৬ সাল হতে তিনি মনোনয়নের জন্য পথসভা ও গনসংযোগ চালিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বসে না থেকে তাই এমতাবস্থায় কালক্ষেপন না করে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে গিয়ে পথসভার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি । সকাল ৯ টা হতে সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয় তার পথসভাগুলো। অনেক সময় বাড়ীতে ফিরতে সন্ধা ঘনিয়ে রাত্রী হয়, তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চাইতে ভালো বলে তিনি জানান। দ্রুত ছুটতে পারছেন বাইসাইকেল নিয়ে।

সাদুল্যাপুর উপজেলার ভাতগ্রামে ১৯৬৮ সালে মুসলিম পরিবারে জন্ম তার। পিতা-মৃত্যু: রজ্জব উদ্দিন মন্ডল, মাতা-মৃত্যু: আছিয়া বেগম। ফরিদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শুরু হয় ফরিদপুর দ্বী-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে হতে ১৯৮৪ সালে এসএসসি পাশ করেন। সাদুল্যাপুর ডিগ্রী কেলেজ হতে এইসএসসি পাশ করেন ১৯৮৭ সালে। পলাশবাড়ী সরকারী কলেজ হতে ১৯৯০ সালে বিএসসি ও ১৯৯৫ সালে রংপুর টি টি কলেজ হতে বিএড লাভ করেন।
স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন ১৯৯১ সালে এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ১৯৯৭ সালে। ছেলে-মেয়ে দুই সন্তানের জনক তিনি। রাজনীতি ইউনিয়ন পর্যায়ে শুরু। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক এবং দলীয় মনোনয়ন চেয়ে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করছেন তিনি। ২০১৬ সাল হতে বাইসাইকেল ও হ্যান্ডমাইক নিয়ে একটানা তিনি এভাবে এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এ পথসভায় নাই কোনো আগাম প্রচারণা, নাই প্রধান অতিথির জন্য অপেক্ষা, তিনি নিজেই ছুটছেন সবার কাছে। পলাশবাড়ী- সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা-৩) সংসদীয় আসনে ছোট বড় বাজার, হাট, ঘাটে, হটাৎ করেই তার পথসভাগুলো শুরু হয়। বক্তব্য শেষে আবার গনসংযোগ করেন তিনি। সাধারণ মানুষ হিসেবে সাধারণ জনতার মাঝে মিশে থাকার চেষ্টা করেন বলে তিনি জানান। জনগন যে সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু তা বক্তব্যে প্রকাশ করেন।

সাদুল্যাপুরের দরী- জামালপুর রোকেয়া সামাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তিনি। স্কুল হতে তিনদিনের ছুটি নিয়ে তিনি পথসভা করছেন এবং তারপর আসবে শুক্রবার এবং পুজার ছুটির মাঝে তিনি এ পথসভা চালিয়ে যাবেন। বাইসাইকেল ও এই হ্যান্ড মাইক নিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সাথে সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা পোষণ করেন তিনি।

এ প্রচারণা নাই কোনো লিফলেট, পোস্টার, নাই শহরে, গ্রামে, গলিতে রাস্তার মোড়ে কোনো নির্বাচনী প্যানা। এমন প্রশ্নে তিনি বলেন আমি কাজ করে যাচ্ছি প্রতিটি স্তরের মানুষের দোরগোড়ায় আমি প্রচারণা চালাচ্ছি তাই এগুলোর প্রয়োজন নেই আমার আপাতত। তবে কিছু লিফলেট ইউনিয়ন পর্যায়ে শিগগির পৌছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আমি দু’চাকায় ভর করে ছুটতে আছি, সুস্ত আছি, এটা অনেক বড় পাওয়া এবং আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার মাঝি হিসেবে মনোনয়ন দেন তাহলে ইনশাআল্লা আমি এই আসনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে উপহার দিতে পারবো বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাই আমার প্রচার প্রচারণা চলবে এবং আমার ও জনগনের আশা পূরুনের সিড়ি অতি নিকটে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।

Check Also

আমখোলা ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক পদে আলোচনায় মোঃআতিকুর রহমান সবুজ

মোঃ মনির হোসেনঃ গলাচিপা উপজেলা আ’লীগের বিভিন্ন ইউনিয়নে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এই সম্মেলন ঘিরে আমখোলা ইউনিয়ন …