Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / চিকিৎসায় নোবেল পেলেন ২জন ও পদার্থে ৩ জন

চিকিৎসায় নোবেল পেলেন ২জন ও পদার্থে ৩ জন

নিয়ামুর রশিদ শিহাব
২০১৮ সালের নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হয়েছে। বছরের প্রথম নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে সোমবার। পুরস্কারটি ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানে। এবার এ ক্ষেত্রে নোবেল জয় করেছেন জেমস পি. অ্যালিসন ও তাসুকু হোনজো। নেতিবাচক ইমিউন নিয়ন্ত্রণে বাধাদানের মাধ্যমে ক্যান্সার থেরাপি আবিষ্কারের জন্য এই দুই চিকিৎসাবিজ্ঞানী যৌথভাবে নোবেল পেয়েছেন।
সুইডেনের স্টকহোমের কারোলিনস্কা অ্যাকাডেমিতে এবারের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
অ্যালিসন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস এমডি অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারের অধ্যাপক। আর হোনজো ১৯৮৪ সাল থেকে জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক।
প্রতি বছর সারা বিশ্বে লাখো মানুষ মারা যায় ক্যান্সারে। এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী এ রোগের সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাপদ্ধতি আবিষ্কার সম্ভব হয়নি। বিশ্বের স্বাস্থ্যসেবা খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত এ রোগে চিকিৎসায় নানা ধরনের থেরাপি প্রচলিত। এ ধারাতেই নতুন সংযোজন হিসেবে হাজির হয়েছে শরীরের নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে জোরদার করে নতুন এক থেরাপি-পদ্ধতি, যা মূলত বিদ্যমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। আর এ পদ্ধতি আবিষ্কার করেই মার্কিন বিজ্ঞানী জেমস পি. অ্যালিসন ও জাপানি বিজ্ঞানী তাসুকু হোনজো যৌথভাবে এ বছর চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার জিতে নিয়েছেন।
যেকোনো ধরনের ক্যান্সারেরই বিস্তার শুরু হয় অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন থেকে। এর মাধ্যমে শরীরে টিউমার কোষের সৃষ্টি হয়, যা পরে ক্যান্সারে রূপ নেয়ার আশঙ্কা থাকে। শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ কার্যকর হলে এই টিউমার কোষ বিনাশ করা সম্ভব। এ বিষয়টির দিকেই মনোযোগ সবচেয়ে বেশি নিবদ্ধ করেন জেমস পি. অ্যালিসন ও তাসুকু হোনজো। তারা এ ক্ষেত্রে যুগান্তকারী এক তত্ত্ব হাজির করেছেন, যা ক্যান্সার চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতির দ্বার উন্মোচন করেছে। কগ্রন্সার নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দুই বিজ্ঞানীই দেখতে পান, শরীরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে (ইমিউন সিস্টেম) বাধাগ্রস্ত করে কিছু প্রোটিন। এর ফলে টিউমার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা। এটা অনেকটা ঘরের পাহারাদারকে বেঁধে রেখে ডাকাতি করার মতো বিষয়। জেমস পি. অ্যালিসনের গবেষণায় দেখা যায়, শরীরের একটি পরিচিত প্রোটিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য বাধা হিসেবে কাজ করে। তিনি এই বিশেষ প্রোটিন থেকে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে মুক্ত করার গুরুত্ব অনুভব করেন, যাতে স্বাধীন ওই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা টিউমারের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করতে পারে। অ্যালিসন যখন এই গবেষণা করছিলেন, ঠিক সেই সময় আরেক গবেষক তাসুকু হোনজো একই রকম একটি প্রোটিনের সন্ধান পান, যার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তিনি দেখেন, ওই প্রোটিনটিও ঠিক একই কাজ করছে। তবে অ্যালিসনের আবিষ্কৃত প্রোটিন থেকে এই প্রোটিন একটু ভিন্ন পন্থায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার এ বছর তাদের নোবেল পুরস্কার এনে দেয়।
১৯০১ সাল থেকে শুরু হয়ে চলতি বছর পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ১১০ জন বিজ্ঞানী। এ পর্যন্ত ১২ জন নারী চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন। বিজ্ঞানের এই শাখায় সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে নোবেল পুরস্কার জেতেন ফ্রেডারিক জি ব্যানটিং। ইনসুলিন আবিষ্কার করার স্বীকৃতি হিসেবে মাত্র ৩২ বছর বয়সে ১৯২৩ সালে তিনি এই গৌরব অর্জন করেন। আর সবেচেয়ে বেশি বয়সে ১৯৬৬ সালে এই পুরস্কার জেতেন পিটন রোয়ুস। টিউমার সৃষ্টির জন্য দায়ী ভাইরাস শনাক্ত করে তিনি ৮৭ বছর বয়সে চিকিৎসায় নোবেল পান।
চিকিৎসায় নোবেল দেয়ার মাধ্যমে এ বছরের নোবেল ঘোষণা শুরু হলো। এরপর পর্যায়ক্রমে পদার্থ, রসায়ন, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এ বছর রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার স্থগিত করেছে।

চলতি বছর লেসার নিয়ে গবেষণায় ‍যুগান্তকারী উদ্ভাবনের জন্য পদার্থে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও কানাডার তিন বিজ্ঞানী।

তারা হলেন মার্কিন পদার্থ বিজ্ঞানী আর্থার অ্যাশকিন, ফ্রান্সের পদার্থ বিজ্ঞানী জিরার্ড ম্যুরো ও কানাডার নারী পদার্থ বিজ্ঞানী ডন্না স্ট্রিকল্যান্ড। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমী মঙ্গলবার এই পুরস্কার ঘোষণা করেন।

নোবেল কর্তৃপক্ষ জানায়, লেজার ফিজিক্সে যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তাদেরকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

নোবেল পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনারের মধ্যে আশকিন পাবেন অর্ধেক। আর বাকি অর্ধেক মুরু ও স্ট্রিকল্যান্ড ভাগ করে নেবেন।

আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

Check Also

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ

নিয়ামুর রশিদ শিহাব আজ ৫ অক্টোবর (শুক্রবার) ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘যোগ্য শিক্ষাকের …