Breaking News
Home / অর্থনীতি / বরিশালের নদীগুলোতে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

বরিশালের নদীগুলোতে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

নিয়ামুর রশিদ শিহাব
বরিশালের একমাত্র বেসরকারি বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পোর্ট রোডে ইলিশের আমদানি বেড়েছে। মওসুমের অনেকটা সময় পরে এসে সাগরের পাশাপাশি নদীতেও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। কিন্তু প্রজনন মওসুমের নিষেধাজ্ঞার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় তাতে খুশি নন মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা।
ব্যবসায়ী ও জেলেদের মতে, অন্যান্য বছরে বৈশাখের পর থেকেই নদী ও সাগরে ইলিশের দেখা মিললেও নানা কারণে এবার তা পাওয়া যাচ্ছে আশ্বিনের শুরুতে। আবার মাত্র ৯ দিন পর ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এতে করে মওসুমের জন্য খাটানো পুঁজি এই অল্প কয়েক দিনের ইলিশ শিকারে পুষিয়ে ওঠা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না বলে মনে করেন তারা।
বরিশাল পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা আশপাশের নদী ও সাগর থেকে ইলিশ বোঝাই ছোট বড় নৌযান এসে নোঙর করছে অবতরণ কেন্দ্রে। প্রতিটি নৌযান থেকে শ্রমিকেরা দ্রুত নামাচ্ছেন ইলিশ, যা পরে নিলাম-ডাক প্রক্রিয়ায় বিক্রি করা হচ্ছে। সাগর ও নদীর মাছ আলাদা আলাদাভাবে বিক্রি হচ্ছে, যার দরেও রয়েছে পার্থক্য। এরপর মাছ গদিতে নিয়ে বরফ দিয়ে প্যাকেটজাত করে নানা বাহনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আর এর মধ্য দিয়ে জেলেদের পাশাপাশি, বাজার, বরফকল, ট্রান্সপোর্ট পর্যন্ত শ্রমিকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
অবতরণ কেন্দ্রের শ্রমিক আলতাফ হোসেন বলেন, মওসুম শুরুর প্রায় তিন মাস পর ভালো করে ইলিশের দেখা মিলেছে। চলতি সপ্তাহে বাজারে ইলিশের চাপ থাকায় কাজও বেড়েছে। তবে আর মাত্র ৯ দিন বাকি আছে নিষেধাজ্ঞার। ফলে এই অল্প কয়েক দিনে যে পরিমাণ মাছ ধরা পড়বে তাতে ব্যবসায়ী, জেলে ও শ্রমিকেরা কেউই খুশি হতে পারছে না। চার মাসের কাজ ১৫ দিনে করা সম্ভব হবে না।
ব্যবসায়ী মাসুম বেপারি বলেন, পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে বরিশালে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ আসছে। যেখানে সাগরের পাশাপাশি বরিশালের কীর্তনখোলাসহ আশপাশের নদীর মাছও রয়েছে। মাছের আমদানি বাড়ায় এখন দামও কিছুটা কমে এসেছে। ঝিমিয়ে থাকা পোর্ট রোডে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। শুধু পোর্ট রোড নয়, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, আলিপুর, মহিপুর মৎস্য বন্দরেও একই অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান তিনি।
পোর্ট রোডের মৎস্য ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মিয়া বলেন, আগে শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেই প্রোপট পাল্টে গেছে। এখন মওসুমের শুরুতে নয়, শেষ দিকে ইলিশ ধরা পড়ছে। শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসের পুরোটাই ইলিশ ধরা পড়েনি। সাগরের কিছু ইলিশ এলেও নদীতে মোটেও ধরা পড়েনি। এখন আশ্বিনে যখন নদীর ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে তখন শিকারে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়ে যাচ্ছে। মওসুমের পরিবর্তন ঘটলেও ঘটেনি নিষেধাজ্ঞার সময়ের পরিবর্তন।
বরিশাল জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস বলেন, এবার কিছুটা দেরিতে হলেও বাজারে প্রচুর ইলিশের আমদানি হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে বাজারে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার মণ ইলিশ আসছে। প্রজনন মওসুমের নিষেধাজ্ঞা পেছানোর জেলেদের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলেদের এ দাবি থাকলেও হিসাব অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা অক্টোবরেই দিতে হবে। নয়তো ইলিশের প্রজননে বিরূপ প্রভাব পড়বে। আর এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও এবার নভেম্বরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে নিষেধাজ্ঞার পর যদি ইলিশ না পাওয়া যায় তবে ব্যবসায়ীদের সীমাহীন তির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি এলসি সাইজ (৬ শ’ গ্রামের ওপরে) ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৩ থেকে ২৫ হাজারে, এলসির নিচের সাইজের ইলিশ (ভ্যালকা) বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ হাজারে এবং এর নিচের সাইজ বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকায়।
আর এক কেজি সাইজের ইলিশ মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪১ হাজারে এবং ১২ শ’ গ্রামের ইলিশ বিক্রি চলছে ৪৫ টাকায়। এ ছাড়া এর ওপরে দেড় কেজি সাইজের ইলিশ ৬০ হাজার টাকা দরে মণপ্রতি বিক্রি চলছে।
তবে স্থানীয় নদীর ইলিশ এই দরের থেকে এক থেকে দুই হাজার টাকা বেশি দামে মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের সব ধরনের ইলিশের দামের চেয়ে মণপ্রতি তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা কম

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …