Breaking News
Home / আইন ও আদালত / গলাচিপায় সার ডিলারের অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকটে প্রান্তিক কৃষকগোষ্ঠী দূর্ভোগে !

গলাচিপায় সার ডিলারের অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকটে প্রান্তিক কৃষকগোষ্ঠী দূর্ভোগে !

জসিম উদ্দিন, গলাচিপা, (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
সরকার প্রতিবছরে হাজার কোটি টাকা ভূর্তুকী দিয়ে প্রতিনিয়ত দেশের কৃষিকাজের উর্বতার লক্ষে, গ্রাম পর্যায় বিভিন্ন উপকরন হিসেবে, সার ও বীজ কৃষকগোষ্ঠীর দূয়ারে পৌছে দেয়ার উদ্দ্যেশে সরকারী আইন ও নিতিমালা থাকলেও, মানছেনা পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বিসিআইসির বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নির্ধারিত কতিপয় দূর্নিতীবাজ সার ডিলার মেসার্স মন্নান এন্টার প্রাইজের প্রোঃ মোঃ আব্দুল মন্নান।

যার অনিয়ম আর দূর্নিতীর কারনে, উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় এক হাজারেরও বেশী কৃষক আজ দূর্ভোগের মধ্যে পরে কৃষিকাজ চালাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, বিসিআইসির সার ডিলার মেসার্স মন্নান এএন্টারপ্রাইজ সরকারী নিতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখি দীর্ঘ ৯ বছর সার ও বীজ বিক্রি করে হাতিয়ে নিজের আর্থীক সচ্ছলতা বৃদ্ধি হলেও প্রান্তিক কৃষকগোষ্ঠী আজ হুমকির পথে বলো জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ ও কৃষকশ্রেণী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালের বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাংলার কৃষিকাজের অগ্রমুখী হওয়ার লক্ষে স্ব-স্বস্থানে ডিলার নিয়োগ দিলেও, মেসার্স মন্নান এন্টারপ্রাইজ ভূয়া কাগজ দেখি, ততকালিন গলাচিপা উপজেলা কৃষি অফিসারের যোগসাজশে সার ডিলার নিয়োগ পায় মেসার্স মন্নান এন্টারপ্রাইজ।

তার’ই ধারাবাহিকতায় প্রতিমাসের বরাদ্দকৃত সার ন্যায্য মূল্যে নির্ধারিত স্থানে নাদিয়ে, কৃত্রিম সংকট তৈরী করে, বিভিন্ন স্থানে চৌরা দামে বিক্রি করছে ইউরিয়া সার।

এখানেই শেষ নয় অনিয়ম আর দূর্নিতী। সরকারী নিতিমালা অনুযায়ী বিসিআইসির সার ডিলার নিয়োগকালে, নিজেস্ব স্থানে দুই হাজার বস্তা সার রাখার ধারণ ক্ষমতা সম্পূর্ণ পাকা অর্ধ ভবন গোডাউন ও বিক্রয় সেন্টার থাকার কথা থাকলেও, বাস্তবে টিনের ভাংঙ্গা ঘড় ছারা কোন গোডাউন বা গুদাম ঘড় পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে আরো পাওয়া যায়, মেসার্স মন্নান এন্টারপ্রাইজের প্রোঃ আব্দুল মন্নান মৃধা একাধিক খুচরা সার বিক্রিয়ের লাইসেন্স বানিয়ে গলাচিপা উপজেলা শহর ও ডাকুয়া ইউনিয়ন স্লুইসগেট বাজারে প্রতিনিয়ত অনিয়ম করে বিক্রি করছে ইউরিয়া সার।

অন্যদিকে বিভিন্ন খুচরা সার বিক্রি প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে নির্ধারিত সার ডিলার থাকলেও প্রতিমাসের বরাদ্দকৃত সার না পাওয়ার কারনে কৃষকদের ন্যায্য মূল্যে সার দিতে পারছেনা।

যার ফলে যে ক’টি খুচরা সার ডিলার আছে, তাতেও মিলছেনা ন্যায্য মূল্যে সার আর কৃষক পরছে নানা বিপাকে।

এ বিষয়ে বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের উপ সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ হুমায়ন কবির কৃষকের খোজ খবর নেয়ার কথা থাকলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে জানতে চাইলে, কোন এ্যারাইবেল নিজ চোখে দেখা ছারাই কোন সার সংকট নেই বলে দায় সারা উত্তর দেন।

আর একদিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাফর খানের কাছা জানতে চাইলে, হঠাৎ করে সার সংকট দেখে দিয়েছে।

এ নিয়ে ইউনিয়নের বিসিআইসির সার ডিলার মেসার্স মন্নান এন্টারপ্রাইজের প্রোঃ আব্দুল মন্নান মৃধাকে আমি বলেছি এবং প্রতিমাসের বরাদ্দকৃত সার কোথায় যায় খোজ খবর নিচ্ছি। তবে, আমিও চাই সকল প্রান্তিক কৃষকগোষ্ঠী যেন ন্যায্য মূল্যে সার পায়।

অপর দিকে গলাচিপা উপজেলা কৃষি অফিসার এ আর এম সাঈফুল্লা এর কাছে মুঠোফোনে মেসার্স মন্নান এন্টারপ্রাইজে অনিয়ম আর দূর্নিতীর কথা জানালে, তিনি তদন্ত করে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে প্রতিবেদককে জানান।

কৃষিস্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিসিআইসির সার ডিলারের অনিয়ম ও দূর্নিতী বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নিয়ে, জমির উর্বরতায় প্রান্তিক কৃষকদের পাশে দারাবে এটাই জনসাধারণের প্রত্যাশা।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …