Breaking News
Home / শিক্ষা / পটুয়াখালীর শাহ জালাল’র রেকর্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ তম

পটুয়াখালীর শাহ জালাল’র রেকর্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ তম

নিয়ামুর রশিদ শিহাব
শাহ জালালের স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ’ ইউনিটে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তি হবার। বিবিএ এমবি পাশ করে ব্যাংকের বড় কর্মকর্তা হয়ে জেলে পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার। কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য বরাবরই সেই অনুযায়ী শাহ জালালের প্রস্তুতি ছিল। এবার স্বপ্ন পূরণে অনেকখানি এগিয়ে গেল কুয়াকাটার শাহ জালাল।
তিনি ২০১৬ সালে মহিপুর কো-অপ্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৫পায়। চলতি বছর পুনরায় কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে জিপিএ ৫ পাওয়ায় মনোবল আরও একধাপ বেড়ে যায়। তার স্বপ্ন জাগে দেশের বড় বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়বে। ভর্তি পরীক্ষা উর্ত্তীর্ণ হবার জন্য সেই অনুযায়ী গত তিনমাসে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় শাহ জালাল। সোমবার দুপুরে ‘গ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ হলে শাহ জালালের মেধা তালিকায় অবস্থান হয় ১৪ তম। এমন সংবাদে তার জন্মভূমি কুয়াকাটার খাজুরা জেলে পল্লী ও কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইতে দেখা গেছে।
শাহ জালালের পিতা দুলাল আকন পেশায় জেলে। ২ ছেলে, ১মেয়ে ও স্ত্রীর মুখে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে দিন রাত খাটুনি খাটতে হয় দুলাল আকনকে। এজন্য বছরের প্রায় পুরোটা সময়ই বঙ্গোপসাগরে থাকতে হয় তাকে। ছেলের পড়াশুনার খবর নেবার ফুসরত নেই তার। সময় থাকলেই বা কি! তিনি তো পড়াশুনা করেন নি। বছরে একটি জামা কিনে দিতে পারেন নি দরিদ্র বাবা। দু’মুঠো ভাল খাবার তুলে দিতে না পারায় ছোট বেলা থেকেই অন্যের বাড়িতে লজিং থেকে পড়াশুনা করেতে হয় শাহ জালালকে।
হাজারো প্রতিকূলতা, কোন বাঁধাই রুখতে পারেনি জেলে পরিবারের সন্তান অদম্য মেধাবী শাহ জালালকে। শাহ জালালের অদ্যম ইচ্ছা শক্তিই জেলে বাবা দুলাল আকনের হাতিয়ার। ছেলেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার স্বপ্নে বিভোর বাবা ধার লোনও দাদনের টাকায় ঢাকায় পাড়িয়েছিলেন ।
ছেলের এমন ধারবাহিক সাফল্যে বাবা দুলাল আকন খুবই আনন্দিত। জেলে পল্লী, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ করেছেন শাহ জালালের বাবা। তিনি আনন্দে কান্না জড়িত কন্ঠে এভাবেই বলেন, মুই তো ল্যাহাপড়া বুঝিনা। পোলায় (ছেলে) ছোট্রকাল হইতে পরের বাড়ি লজিন থ্যাকইয়া পড়ালেখা হরচে। তয় সামনে ওরে আরও লেহাপড়া হরামু।
আকাশ ছেঁয়ার গল্প শুনতে চাইলে মেধাবী শিক্ষার্থী শাহ জালাল বলেন, প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকলে মানুষকে কোন প্রতিকুলতা রুখতে পারে না । ইচ্ছা ছিল ঢাবিতে পড়ব- পড়বই সেই অনুযায়ী গোল সেট করে প্রস্তুতি নিয়েছি সফল হয়েছি। বাবা মার স্বপ্ন পুরনের লক্ষে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।
কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সিএম সাইফুর রহমান খান বলেন, শাহ জালালের এ সাফল্য কলেজের চলমান শিক্ষার্থীদের মনোবল ও অনুপ্রেরনা জোগাবে। সত্যিই শিক্ষকদের ভাল লাগার জায়গাটাই স্পষ্ট যখন কোন শিক্ষার্থী সফল হয় তখন ভাবনার জায়গাটা তৈরী হয়। ওরাই তো আগামীর বাংলাদেশ আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবে আগামীর জন্য মানবতার কল্যানে।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …