Breaking News
Home / আইন ও আদালত / ৮ মাস জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়নি তালা উপজেলা পোস্ট অফিসে

৮ মাস জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়নি তালা উপজেলা পোস্ট অফিসে

এসএম হাসান আলী বাচ্চু,তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা:
জাতীয় পতাকা বিধিমালা-১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০)-এ জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে। জাতীয় পতাকা বিধিমালা-১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০) এ বলা হয়েছে, জাতীয় পতাকা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের নিদর্শন। তাই সব সরকারি ভবন, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভবনে সব কর্ম দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিধান রয়েছে।

তালা উপজেলা পোস্ট অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না। এমনকি জাতীয় দিবসগুলোতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না।

জানা গেছে, তালা উপজেলার সদরে খুলনা-পাইকগাছা সড়কের পাশে অবস্থিত তালা উপজেলা পোস্ট অফিসে প্রায় দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস যাবৎ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। এমন কি জাতীয় দিবসগুলোতেও না। গত জাতীয় কোন দিবসে পতাকার মুখ দেখিনি পোস্ট অফিস। অথচ পোস্ট অফিসের ছাদে পতাকা উত্তোলনের বেদী বা স্ট্যান্ড তৈরি করা রয়েছে। সে স্ট্যান্ড বা বেদীগুলো শূণ্য পড়ে থাকে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর।

বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান রিপন জানান, জাতীয় পতাকা মানেই শুধু এক টুকরা কাপড় নয়, এ পতাকা আমাদের গৌরবের প্রতীক, আমাদের রাষ্ট্রীয় পরিচয়। আমাদের জাতীয়তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ পতাকা। ৩০ লাখ শহীদ ও ৩ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত এ পতাকার অবমাননা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। আমাদের পিতা, চাচার ৯ মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র ও একটি লাল সবুজের পতাকা পেয়েছি। এটা আমাদের গর্বের প্রতিক, সেই পতাকা উত্তোলন না করায় গভীর ব্যাথিত হচ্ছি ।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জানান, বাংলাদেশ নামক এই ভুখন্ড জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে, ৩০লাক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পেয়েছি। তার সাথে পেয়েছি লাল -সবুজের একটা পতাকা। যেই পতাকায় লাক্ষ লাক্ষ শহীদের রক্ত লেগে আছে । আমরাদের তো চাওয়ার কিছু নাই শুধু জাতীয় পতাকা উত্তোলন ছাড়া আর জাতীয় দিবস গুলো পালন করা। আর সেই জাতীয় পতাকা যদি সরকারী দপ্তর তালা পোস্ট অফিসে উত্তোলন করা না হয় তাহলে এর থেকে কষ্টের, দু:খের আর কিছুই থাকে না ।

তালা উপজেলা পোস্ট মাস্টার গনেষ চন্দ্র মল্লিক জানান, আমাদের কোন প্রোগ্রাম পতাকা উত্তোলন করা হয়না এটা নিয়ম মাপিক চলে আসছে এজন্য আমাদের প্রত্যেক দিন পতাকা উত্তোলন করা হয় না। তিনি রীতিমতো ঔদ্ধত্যে প্রকাশ করে জাতীয় পতাকা প্রতিদিন উত্তোলনের প্রয়োজন নেই বলে মনগড়া যুক্তি দেখিয়েছেন। যদি কেউ অবমাননা করে, তাহলে তাকে পেতে হবে শাস্তি এছাড়া কিছু অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে যেমন ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও সরকার প্রজ্ঞাপিত অন্য যে কোনো দিবসে বাংলাদেশের সরকারি, বেসরকারি ভবন ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা বাধ্যতামূলক। তাছাড়া শহীদ দিবস ও জাতীয় শোক দিবসে বা সরকার প্রজ্ঞাপিত অন্যান্য দিবসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকার বিধান রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন পতাকা উত্তোলন করি আর না করি তাতে আপনার (প্রতিবেদকের ) কি যায় আসে। আপনাদের মতো অনেক প্রতিবেদক দেখেছি কিছুই করার ক্ষমতা রাখে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পোস্ট অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, আমরা বলা সত্বেও অদৃশ্য কারনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়না। তাছাড়া পোস্ট মাস্টার প্রতিমাসে লাক্ষ লাক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে সরকারকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে ।

এ বিষয়ে উপশহরে সমালোচনাসহ সুধীমহলকে হামেশাই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …