Breaking News
Home / আইন ও আদালত / তালায় জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে অন্যের সম্পত্তি হাতানোর চেষ্টা

তালায় জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে অন্যের সম্পত্তি হাতানোর চেষ্টা

এসএম হাসান আলী বাচ্চু,তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা :
জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতার নাম জালিয়াতি করে সিদ্দিক সরদার নামের এক ব্যক্তি অন্যের জমি ও সম্পদ হাতিয়ে নেবার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি তালা উপজেলার জেঠুয়া গ্রামের। সিদ্দিক সরদার’র এই অপকর্মের প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিচ্ছে।
তালার জেঠুয়া গ্রামের জামাল মোড়ল জানান, খুলনা জেলার পাইকগাছা সদরের মো. কফিল উদ্দীন সরদার তার স্ত্রী সালেহা বিবিকে তালাক দেয়। এসময় কফিল ও সালেহা দম্পতির সিদ্দিক সরদার নামের একটি পুত্র সন্তান ছিল। তালাক হবার পর সালেহা বিবি তার ছেলে সিদ্দিক সরদারকে নিয়ে তালা উপজেলার নাংলা গ্রামে পিতার বাড়িতে চলে আসে। এর কিছুদিন পর জামাল মোড়ল’র পিতা জহর মোড়ল সালেহা বিবিকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে। দ্বিতীয় বিয়ের সময় সালেহা বিবি তার পূর্বের স্বামী কফিল উদ্দীন সরদার’র ঔরসজাত সন্তান সিদ্দিক সরদারকে পিতার বাড়িতে রেখে আসে।
ভুক্তভোগী জামাল মোড়ল অভিযোগ করেন, তাদের জমি ও অন্যান্য সম্পদ কৌশলে হাতিয়ে নেবার জন্য সৎ মা সালেহা বিবি এক পর্যায়ে সিদ্দিক সরদারকে নাংলা গ্রাম থেকে জেঠুয়া গ্রামে নিয়ে আসে। এখানে কিছুদিন থাকার পর সিদ্দিক সরদার পরিকল্পিতভাবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে (নং : ৮৭১৯০২৩৪০৭২৬৬) নিজের পিতার নাম কফিল উদ্দীন সরদার’র পরিবর্তে জহর মোড়ল এবং ঠিকানা- জেঠুয়া, তালা, সাতক্ষীরা লিপিবদ্ধ করায়।
জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতার ভূয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করার সুযোগে স্থানীয় একটি কূচক্রী মহলের সহযোগীতায় সিদ্দিক সরদার এখন সিদ্দিক মোড়ল হয়ে মৃত জহর মোড়ল এর পুত্র জামাল মোড়ল গংদের ন্যায্য সম্পত্তি জোর দখলের পায়তারা চালাচ্ছে। এঘটনার প্রতিকার পেতে মৃত. জহর মোড়ল’র পুত্র জামাল মোড়ল গং বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছে। এরইমধ্যে তথাকথিত সিদ্দিক মোড়ল যে প্রকৃত অর্থে সিদ্দিক সরদার এবং সে জেঠুয়া গ্রামের মৃত জহর মোড়ল এর পুত্র নয়, পাইকগাছা সদরের কফিল উদ্দীন সরদার এর ঔরসজাত সন্তান- সেই মর্মে পাইকগাছা উপজেলার ৫নং সোলাদানা ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মাহাবুব জোয়াদ্দার, সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান এস.এম.এ মাজেদ প্রত্যায়নপত্র সহ নাগরিক সনদপত্র দিয়েছিলেন। এছাড়া তালা উপজেলার সংশ্লিষ্ট ১১ নং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু- সিদ্দিক সরদার যে জেঠুয়া গ্রামের মৃত জহর মোড়ল এর ওয়ারেশ নয় সেই হিসেবে একটি ওয়ারেশ কায়েম সনদ দিয়েছেন। অপরদিকে তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার এর নির্দেশে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ ও সংরক্ষিত সদস্য সোনালী চৌধুরী তদন্ত করে- সিদ্দিক মোড়ল প্রকৃত অর্থে সিদ্দিক সরদার, পিতা : কফিল উদ্দীন সরদার, মাতা : সালেহা বিবি, সাং : পাইকগাছা, খুলনা এবং হাল সাং : জেঠুয়া, তালা-সাতক্ষীরা মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এতসব কিছুর পরও একটি মহলের সহযোগীতা নিয়ে সিদ্দিক সরদার তার ভূয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে জেঠুয়া গ্রামের মৃত জহর মোড়ল’র ওয়ারেশ দাবী করে জহর মোড়ল’র পুত্রদের কাছ থেকে জমি সহ অন্যান্য সম্পদ হাতিয়ে নেবার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এঘটনায় মৃত জহর মোড়ল’র ভুক্তভোগী সন্তানেরা উর্দ্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …