Breaking News
Home / সারাদেশ / বরিশাল / পটুয়াখালী / গলাচিপায় এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়, চিন্তিত অভিভাবকগন

গলাচিপায় এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়, চিন্তিত অভিভাবকগন

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা :
গলাচিপায় উপজেলায় ২০১৮সালের এইচএসসি পরীক্ষায় এমপিওভুক্ত কলেজ গুলোতে ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। ফলাফলের দিক দিয়ে এত বড় বিপর্যয় গলাচিপায় আর কোনা বছর ঘটেনি। এতে অভিভাবকগন চিন্তিত হয়ে পড়েছে । বহুবিধ কারণে কলেজের লেখা পড়ার মান নি¤œগতি হয়েছে বলে সচেতন মহল ধারণা করছে। গলাচিপায় চরম বিপর্যয় ঘটেছে খারিজ্জমা কলেজ, চরবিশ্বাস কেরামত আলী মহাবিদ্যালয়। নন এমপিও ভুক্ত আমখোলা কলেজ বাদে সব কলেজগুলোর পাশের হার বোর্ডের পাশের হারের চেয়ে কম। সূত্র জানায়, গলাচিপা উপজেলায় এমপিওভুক্ত কলেজ ৬টি আর নন এমপিও ভুক্ত কলেজ রয়েছে ৩টি। উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র দুইটি। একটি হলো গলাচিপা ডিগ্রি কলেজ অন্যটি গলাচিপা মহিলা ডিগ্রি কলেজ। এমপিওভুক্ত কলেজগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পৌরসভায় অবস্থিত গলাচিপা ডিগ্রি কলেজ থেকে ৬শত ৩৫জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পাস করেছে ৩২৮জন। পাশ করেনি ৩০৭জন। কলেজে পাশের হার শতকরা ৫১.৬৫। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২জন। জিপিএ ৪-<৫ পেয়েছে ২০জন, জিপিএ ৩.৫-<৪ পেয়েছে ৪৯জন, জিপিএ ৩-<৩.৫ পেয়েছে ৯২জন, জিপিএ ২-<৩ পেয়েছে ১৫৮জন, জিপিএ ১-<২ পেয়েছে ৭জন। বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছে ১৮৫জন, পাশ করেছে মাত্র ৬২ জন, পাশ করেনি ১২৩জন। পাশের হার শতকরা ৩৩.৫১। জিপিএ ৫ নেই বরং জিপিএ ৪-<৫ রয়েছে মাত্র ৩টি। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ফলাফল জিপিএ-৩ এর নিচে রয়েছে। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া দেড় ডজন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও কেউই আশানুরূপ ফলাফল অর্জন করতে পারেনি। এমনকি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করেছে বলেও একটি নির্ভর যোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়। গলাচিপা মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ১শত ৩২জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পাস করেছে ৬৫জন। পাশ করেনি ৬৭জন। কলেজে পাশের হার শতকরা ৪৯.২৪। জিপিএ -৫ পেয়েছে ১জন। জিপিএ ৪-<৫ পেয়েছে ৮জন, জিপিএ ৩.৫-<৪ পেয়েছে ৮জন, জিপিএ ৩-<৩.৫ পেয়েছে ১৮জন, জিপিএ ২-<৩ পেয়েছে ২৯জন, জিপিএ ১-<২ পেয়েছে ১জন। কলাগাছিয়া এস এম সেকান্দার আলী কলেজ থেকে ১৬১জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পাস করেছে ৮৪জন। পাশ করেনি ৭৭জন। কলেজে পাশের হার শতকরা ৫২.১৭। জিপিএ -৫ নেই। জিপিএ ৪-<৫ পেয়েছে ৪জন, জিপিএ ৩.৫-<৪ পেয়েছে ১২জন, জিপিএ ৩-<৩.৫ পেয়েছে ২৩জন, জিপিএ ২-<৩ পেয়েছে ৪৪জন, জিপিএ ১-<২ পেয়েছে ১জন। উলানিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পাস করেছে ৯৫জন। পাশ করেনি ১০৫জন। পাশের হার শতকরা ৪৭.৫০। এর মধ্যে জিপিএ ৩.৫-<৪ পেয়েছে ৫জন, জিপিএ ৩-<৩.৫ পেয়েছে ১৮জন, জিপিএ ২-<৩ পেয়েছে ৬৫জন, জিপিএ ১-<২ পেয়েছে ৭জন। হাজী কেরামত আলী মহাবিদ্যালয় থেকে ২৩৩জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পাস করেছে ৯১জন। পাশ করেনি ১৪২জন। পাশের হার শতকরা ৩৯.০৬। এর মধ্যে জিপিএ ৪-<৫ পেয়েছে ৩জন, জিপিএ ৩.৫-<৪ পেয়েছে ৪জন, জিপিএ ৩-<৩.৫ পেয়েছে ১৮জন, জিপিএ ২-<৩ পেয়েছে ৬১জন, জিপিএ ১-<২ পেয়েছে ৫জন। খারিজ্জমা কলেজ থেকে ১১৮জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পাস করেছে ৪৩জন। পাশ করেনি ৭৫জন। কলেজে পাশের হার শতকরা ৩৬.৪৪। এর মধ্যে জিপিএ ৪-<৫ পেয়েছে মাত্র ১জন, জিপিএ ৩.৫-<৪ পেয়েছে ৩জন, জিপিএ ৩-<৩.৫ পেয়েছে ১৩জন, জিপিএ ২-<৩ পেয়েছে ২৬জন। নন এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমখোলা কলেজ থেকে ৪৬জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পাস করেছে ৩৬জন। পাশ করেনি ১০জন। কলেজে পাশের হার শতকরা ৭৮.২৬। জিপিএ ৩.৫-<৪ পেয়েছে ২জন, জিপিএ ৩-<৩.৫ পেয়েছে ১৩জন, জিপিএ ২-<৩ পেয়েছে ১৯জন, জিপিএ ১-<২ পেয়েছে ২জন। বকুলবাড়িয়া ইউনিয়ন কলেজ থেকে ৮৪জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পাস করেছে ৩৮ জন। পাশ করেনি ৪৬জন। পাশের হার শতকরা ৪৫.২৪। এর মধ্যে জিপিএ ৩.৫-<৪ পেয়েছে ২জন, জিপিএ ৩-<৩.৫ পেয়েছে ১৪জন, জিপিএ ২-<৩ পেয়েছে ২০জন, জিপিএ ১-<২ পেয়েছে ২জন। চিকনিকান্দি কলেজ থেকে ১১২জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পাস করেছে ৪৬জন। পাশ করেনি ৬৬জন। পাশের হার শতকরা ৪১.০৭। এর মধ্যে জিপিএ ৩.৫-<৪ পেয়েছে ২জন, জিপিএ ৩-<৩.৫ পেয়েছে ১৪জন, জিপিএ ২-<৩ পেয়েছে ২০জন, জিপিএ ১-<২ পেয়েছে ২জন। এ দিকে অভিভাবকরা ফলাফলে মনে কষ্ট পেলেও সরকাররে এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে। ফল বিপর্যয়ের ব্যাপারে গলাচিপা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফোরকান কবির ও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো: শাহজাহান মিয়া এ বারের পরীক্ষা পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাসমুখি করতে পারলেই ফলাফল সন্তোষ জনক হবে।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …