Breaking News
Home / সারাদেশ / বরিশাল / পটুয়াখালী / উপকূলে সাংবাদিকতা ও সংবাদ সংগ্রহের ভূমিকা

উপকূলে সাংবাদিকতা ও সংবাদ সংগ্রহের ভূমিকা

আল আমিন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
উপকূলে খবরের পেছনে ছুঁট চলে মানুষগুলোর খবর কেউ রাখে না। অথচ অন্যের অধিকার আদায়ের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে সংবাদ লেখাই পেশা। গন্তব্যহীন পথে ছুটে চলা তাদের নেশা। কেউ সুবিধা বঞ্চিত কিনা, কারও বাসস্থান হারিয়ে পথে কিনাÑএমন নানা খবরে পেছনে দিনরাত ঘুরে বেড়ায় তারা। কিন্তু তাদের জীবন যুদ্ধের খবর কে রাখে, কেবা লিখে?
এ বর্ণনা পড়ে হয়তো কারও বুঝতে বাকি নেই যে, এ কথাগুলো উপকূল সাংবাদিকদের নিয়ে লেখা। উপকূলের বিভিন্ন জেলা কিংবা উপজেলায় সাংবাদিকতার নানা প্রতিবন্ধকতার বর্ণনা হয়তো লিখে শেষ করা যাবে না। কারণ তাদের প্রতিটি মুহূর্ত চ্যালেঞ্জর মধ্যে কাটে। অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিটি নিউজেই থাকে মারাত্মক ঝুঁকি। এটা হয়তো ঢাকার সাংবাদিকরা ততটা উপলদ্ধি করতে পারবে না।
তেমনি উপকূলের পটুয়াখালীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাঙ্গাবালী উপজেলা। এটি বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠে। ছোটবাইশদিয়া, বড় বাইশদিয়া, রাঙ্গাবালী, চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজÑএ ৫টি ইউনিয়ান নিয়া রাঙ্গবালী ্উপজেলা।এছাড়াও ছোট-বড় অসংখ্য চর রয়েছে। এরমধ্যে চরকাশেম, চরনজির, চরইমারশন, চরআন্ডা এ চরগুলো উল্লেখযোগ্য । ইউনিয়ান কিংবা চরÑএকটা থেকে আরেকটা বিছিন্ন । আর এই বিছিন্নতার কারন নদী, এক যায়গা থেকে অন্য যায়গায় যাওয়া আসার জন্য নৌকা কিংবা ট্রলার একমাত্র ভরসা ।
২০১২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারী রাঙ্গাবালী থানাকে উপজেলা ঘোষনা করা হয় । তারপর থেকেই রাঙ্গাবালীতে জাতীয় দৈনিকও আঞ্চলিক পত্রিকায় অনেক সাংবাদিক সংবাদ বাহক হিসাবে কাজ করে আসছেন। এখানকার মানুষের দুঃখ, কষ্ট, হাসি, কান্নাও আগামী সম্ভাবনা তুলে ধরছেন পত্রিকার মাধ্যমে। বর্ষার মৌসুমে নদী পথ পাড়ি দিলেই ভোগান্তি শেষ হয় না । কাঁচা রাসÍা পায় হেটে যেতে হয় ১০-১২ কিলোমিটার। সংবাদ সংগ্রহে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।
এখানে রয়েছে দৈনিক র্বতমান, যুগান্তর, যায়যায়দিন, আমাদের সময়, ভোরের পাতা, আমাদের অর্থনীতি, বাংলাদেশ টুডে, নিউ ন্যাশন, আলোকিত সময়, প্রতিদিনের সংবাদ, সংবাদ, মানবজমিন, নয়া দিগন্ত, কলকাতা টিভি, ডেসটিনি, সকালবেলা পত্রিকার সংবাদকর্মীরা । এখানকার বিচ্ছিন্ন চরগুলোতে সংবাদ সংগ্রহ করতে ইচ্ছে করলে পৌছানো সম্ভব নয়। দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীপথ পাড়ি দিতে হয় সংবাদ কর্মীদের। খবর প্রকাশের পর পত্রিকা হাতে পেতে সময় লাগে দুইদিন। তরুন একঝাঁক সংবাদকর্মী রাঙ্গাবালীতে যাদের অদম্য সাহস আর শক্তি দিয়ে উপকূলের মানুষের ভাগ্যউন্নয়নের জন্য চেষ্ঠা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রান্তীক জনপদে ছুটে চলা রাঙ্গাবালী উপজেলার জাতীয় দৈনিকের প্রথম সাংবাদিক ও দৈনিক যুগান্তরের রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি কামরুল হাসান বলেন, উপকূলে সাংবাদিকতা করা খুবই কঠিন। বিশেষ করে এ উপজেলায় কাজ করতে দুর্ভোগ আরও বেশি। কখনো বিদ্যুতের অভাবে ক্যামেরায় র্চাজ থাকে না, কখনো ল্যাপটপে। এখানে কারেন্ট নিউজের চাইতে ফিচার নিউজ বেশি থাকে । আর ফিচার নিউজ সংগ্রহ করতে বিছিন্ন এলাকায় যেতে হয় । তিনি বলেন, উপকূলে সংবাদ সংগ্রহে কঠোর শ্রমের পাশাপাশি যাওয়া আসার খরচ অনেক বেশি । কিন্তুু সেই নিউজটা ছাপা হওয়ার নিশ্চয়তা নাই। আবার ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী হাতেগোনী কয়েকটা পত্রিকায় বেতন দিলেও বেশির ভাগ পত্রিকায় বিনা পয়সায় কাজ করতে হয় । এছাড়া ঝুঁকি নিয়া কাজ করে মামলা হামলার শিকার হলে বেশির ভাগ পত্রিকা সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ায় না।

দৈনিক যায়যয়দিনের রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি এম সোহেল বলেন, রাঙ্গাবালীতে আমরা সবাই তরুন সংবাদকর্মী যোগাযোগ বিছিন্ন রাঙ্গাবালী উপজেলার প্রান কেন্দ্র ছাড়া যে স্থানেই সংবাদ সংগ্রহ করতে যাই নদী পথ দিয়েই যেতে হয়। অনেক সময় দূর্যগপূর্ন আবহাওয়াও জীবনের ঝুকি নিয়া নৌকা বা ট্রলারে যাই। তাছাড়া রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুৎ নাই ল্যাপটপ, ক্যামেরা, মোবাইল নিউজ করার জন্য অতি প্রয়োজনীয় এইগুল চার্জ করার জন্য আমরা সৌরবিদ্যুৎ ব্যাবহার করি। দুর্যগ পূর্ন আবহাওয়ায় বিপাকে পড়তে হয় আমাদের।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …