Breaking News
Home / সারাদেশ / বরিশাল / পটুয়াখালী / অস্থির কাঁচা বাজার, মাছ মাংশেরও মূল্য বৃদ্ধি পটুয়াখালীতে লাগামহীন নিত্য পণ্যের বাজার

অস্থির কাঁচা বাজার, মাছ মাংশেরও মূল্য বৃদ্ধি পটুয়াখালীতে লাগামহীন নিত্য পণ্যের বাজার

মো: নাসির উদ্দিন, পটুয়াখালী
রমজানকে ঘিরে লাগামহীন হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার দর। কাঁচা বাজার হয়ে পড়েছে সব চেয়ে বেশি অস্থির। প্রতিদিন বাড়ছে পণ্যের মূল্য। রমজানের দুদিন আগে থেকেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের এমন অস্থির বাজারমূল্যে বিপাকে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা। বিপদে পড়েছে নি¤œ মধ্যবিত্তসহ খেটে খাওয়া মানুষ। ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কোন নিয়ন্ত্রণ কিংবা বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী  সিন্ডিকেট প্রতিদিনি পণ্যের মূল্য বাড়াচ্ছে।
সরেজমিনে সোমবার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোলা বুট ৭৫টাকা, মুগ ডাল ১৫০ টাকা, খেসারী ডাল ৬০টাকা, মসুরী ৭০-১২০ টাকা, খেসারী ডাল ৬০টাকা, পিয়াজ ৪০ টাকা, রসুন ৬৫ টাকা, চিনি ৬৫ টাকা, আলু ২৫টাকা, আদা ১৪০ টাকা, সোয়াবিন তেল (খোলা) ১০০টাকা, বোতলজাত ১১০-১২০ টাকা। এক সপ্তাহ পূর্বে (শুক্রবার ১১ মে) এসব পণ্যের বাজার দর পন্য ভেদে ১০-৩০ টাকার কম ছিল। রমজান শুরুর দু’দিন পূর্ব থেকে দাম বেড়ে গেছে এলাচি, দারচিনি, ধনিয়া, জিরার। মুড়ি ১২০টাকা, ভূষি ১০০ গ্রাম ১০০ টাকা।
গরুর মাংশ ৫০০-৫২৫ টাকা, খাসীর মাংস ৮০০টাকা, বয়লার মুরগী ১৮০ টাকা, লেয়ার মুরগী ২২০ টাকা, কক মুরগী ২০০টাকা, সোনালী মুরগী ২৮০ টাকা, দেশী মুরগী ৩৮০-৪৩০ টাকা। এক সপ্তাহ পূর্বে (শুক্রবার ১১ মে) এসব প্রতিটি পন্যের বাজার দর ৫০-৮৫টাকা কম ছিল। কাঁচা বাজার হয়ে পড়েছে অস্থির। প্রতিটি কাঁচা পণ্য দ্বিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে। শষা ৮০টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০টাকা, বেগুন ৮০টাকা, কাকরোল ৯০টাকা, পটল ১৭০টাকা, লেবু (কাগুজী) হালি ৬০টাকা, লেবু (বাতবী) ৮০টাকা। মাছের বাজারেও একই অবস্থা। সকল মাছে কেজি প্রতি বেড়েছে ১০০-২০০ টাকা।
রমজান শুরুর পূর্বেই সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা বলা হলেও মাঠে তার প্রতিফলন নেই। সরকারী নির্দেশনা থাকা সত্বেও কোন দোকানেই নেই মূল্য তালিকার বোর্ড। সংবাদকর্মীর উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকেই তাদের মূল্য তালিকা বোর্ড লিখতে তৎপর হয়ে পড়েন। মুদী মোনহরী ব্যবসায়ী সুব্রত ভট্টাচার্য্য বলেন, সপ্তাহ পূর্বে চিনি প্রতি বস্তায় দু’শ টাকা বেড়ে গেছে।
কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি: সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ শিকদার বলেন, সমিতির আওতাভূক্ত সকল সমিতির ৬০জন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে সভা করা হয়েছে। বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখাসহ বাড়তি মূল্যে পণ্য বিক্রি না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এনিয়ে মাইকিং করা হয়েছে। সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিটি দোকানে গিয়ে মূল্য তালিকা টানিয়ে রাখার জন্য বলা হয়েছে। এরপরেও যদি কেউ বাজার অস্থিতিশীল করে, তবে তার দ্বায় তাকেই নিতে হবে।
ছাত্রনেতা মাহামুদুল হাসান টিটু বলেন, মধ্য প্রাচ্যের ব্যবসায়ীরা বছরের এগার মাস ব্যবসা করে। আর রমজানে মাসে রোজাদারদের খেদমত করার জন্য পণ্যে মূল্য ছাড় দেয়। সেখানে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা এগার মাস ব্যবসা করে আর রমজান মাসে দ্বিগুন মুনুফা করে। আইনের প্রয়োগ করে এর প্রতিকার সম্ভব নয়। কেবলমাত্র মানসিক পরিবর্তনই এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে পারে।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …