Breaking News
Home / আইন ও আদালত / পুলিশের সাথে এলাকাবাসির সংঘর্ষ, ২৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ, দুই রাইফেল খোয়া, ৬ পুলিশসহ আহত অর্ধশত

পুলিশের সাথে এলাকাবাসির সংঘর্ষ, ২৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ, দুই রাইফেল খোয়া, ৬ পুলিশসহ আহত অর্ধশত

শেখ মোঃ সাইফুল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চর খোর্দ্দা ও লাঠশালার চরে বেক্সিমকো কোম্পানির প্রস্তাবিত সোল্যার প্যানেল পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ স্থলে জমি দখলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে এলাকাবাসির ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় পুলিশ টিআর সেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও অন্তত ২৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। বিক্ষুদ্ধ জনতা আনসার ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে এসআই ও কনস্টবলসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। খোয়া গেছে কর্মরত আনসারের দুই রাইফেল।
জানা গেছে, উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের চর-খোর্দ্দা ও লাটশালার চরে বেক্সিমকো কোম্পানি সোল্যার পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণের জন্য ৭’শ একর জমি ক্রয় করে। ক্রয়কৃত জমি গতকাল মঙ্গলবার বিকালে দখল নিতে গেলে এলাকাবাসি ফুসে উঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে এলাকাবাসি বিক্ষুদ্ধ হয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ টিআর সেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে থাকলে এলাকাবাসি পুলিশকে ঘিরে ফেলে। এসময় পুলিশ অন্তত ২৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেন। জনতার ধাওয়া ৬ পুলিশ আহত হয়। আহতরা হলেন- এসআই আলম বাদশা, এসআই বাবুল, এসআই ওয়াহেদ আলী, এএসআই শরিফুল, কনস্টবল মোজাম্মেল, কনস্টবল সাজ্জাত। পুলিশের টিআরসেল রাবার বুলেট ও গুলিতে রেজাউল, বাদশা, মোজা মন্ডল, আকরাম, মুক্তি সরফুল, রুবিয়া, আরজিনা, রাজ্জাক, মমিন, মতিয়ার, সালমা, সলেমান, আশরাফুল, আব্দুল হক মন্ডলসহ অন্তত ৫০ জন বিক্ষুদ্ধ জনতা আহত হয়। আহতদের উলিপুর, কুড়িগ্রাম, রংপুর, পীরগাছা ও সুন্দরগঞ্জসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিক্ষুদ্ধ জনতারা পাওয়ার প্লান্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ক্যাম্প ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। গাইবান্ধা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লা আল ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম গোলাম কিবরিয়া ও থানা অফিসার ইনচার্জ আতিয়ার রহমান এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। আনসার ক্যাম্পের সহকারী কমান্ডার নজরুল ইসলাম জানান, বিক্ষুদ্ধ জনতা আগুন ধরিয়ে দিলে তরিঘড়ি করে বাহির হতে দুই রাইফেল খোয়া যায়। এ খবর লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে প্রকল্পের কো-অডিনেটর ইয়ার আলী জানান, এ ঘটনায় তাদের কোটি টাকার সম্পদ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত প্লান্ট এলাকায় আবাদি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ থাকায় ওই এলাকার শত শত মানুষ ওই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার দাবীতে প্রতিবাদ মুখর হয়ে দীর্ঘদিন থেকে মরণ কমিটি নামে একটি কমিটি গঠন করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। ইতোপূর্বে তারা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …