Breaking News
Home / সারাদেশ / খুলনা / সাতক্ষীরা / তালায় ৪৮ বছরের পুরনো ব্রীজটির সংষ্কারে নেই কোন পদক্ষেপ

তালায় ৪৮ বছরের পুরনো ব্রীজটির সংষ্কারে নেই কোন পদক্ষেপ

এসএম হাসান আলী বাচ্চু,তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা:
তালা উপজেলার শাকদহা খালের উপর পাকিস্তান আমলে নির্মিত ব্রীজটির সংস্কারের অভাবে ধ্বংস হতে বসেছে । বীজটির এক প্রান্তে সংযোগ রাস্তা না থাকায় কৃষিজোন খ্যাত শাকদহ এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করতে পারছে না অন্তত ৩০ গ্রামের কৃষকরা।সেতুর একটি মাত্র সংযোগ সড়কের অভাবে কৃষিতে রীতিমত অনীহা চলে এসেছে সেখানকার কৃষকদের। ব্রীজটি সংস্কারপূর্বক সংযোগ সড়ক নির্মাণ করলে ৩০ গ্রাম হইতে কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন কৃষক ভাইয়েরা ।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,চরম অযত্ন-অবহেলা ও দীর্ঘ দিন সংষ্কারের অভাবে ব্রীজটির নিরাপত্তা রেলিং নিশ্চিহ্ন হয়েছে অনেক আগেই। মাঠের গভীরে নির্মিত ব্রীজটির অবস্থান তরুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা। তাই মাদকাশক্তসহ অপরাধীদেরও নিরাপদ পদচারণা রয়েছে সেখানে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষকদের দূর্দশার খবরে ব্রীজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের শাকদহা ব্রীজের উত্তরদিকে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদ থেকে বেতনা নদীতে মিশ্রিত দীর্ঘ খালের উপর এ ব্রীজটির অবস্থান। জনপদের সাধারণ মানুষের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘ দিন পূর্বে ব্রীজটি নির্মিত হয়েছে। তবে ঠিক কবে কোন সরকারের শাষনামলে ব্রীজটি নির্মিত হয় সে বিষয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগ কিংবা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কোন সঠিক তথ্য দিতে না পারলেও স্থানীয়দের ধারণা করে বলেনর্ পাকিস্তান শাষনামল কিংবা তারও পূর্বে নির্মিত হতে পারে ব্রীজটি। ব্রীজের কারুকাজ শৈলী বা নিদর্শন দেখে এটি দেশ ভাগেরও অনেক পূর্বে নির্মিত বলে অনেকের ধারণা। অনেকে বলেন,পাকিস্তান আমলে নির্মিত একাধিক ব্রীজের সাথে এ ব্রীজটির নকশার অনেক মিল রয়েছে। ব্রীজটি কংক্রিটের ৩টি আরসিসি ওয়াল এর উপর ৬টি স্প্রিং দিয়ে বসানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না থাকা বা সংষ্কার না করা অথবা অবহেলার নমুনা হিসেবে ব্রীজের পশ্চিম দিকে মিঠাবাড়ি, নগরঘাটা, পাঁচপাড়া, ভৈরবনগর, মঠবাড়িয়া, কালিবাড়ি সহ ১০টি গ্রামের মানুষ ব্রীজের এক প্রান্তে আসতে পারলেও পূর্ব দিকের প্রান্তে সংযোগ রাস্তা না থাকায় ২০ গ্রামের মানুষ ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে শাকদহা খালের অববাহিকায় বর্তমান সমন্বিত মৎস্যঘেরে সবজি, কুল, ধান, পাট ইত্যাদি জাতীয় কৃষিপন্য বাজারজাত করতে ব্রীজটি ব্যবহার করতে না পারায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে পাটকেলঘাটা বাজার, মৌলভীবাজার যেতে হচ্ছে। এছাড়া ঐ এলাকায় উৎপাদিত দ্রুত পচনশীল মাছ ও সবজি সহ বিভিন্ন কাঁচা মাল যথা সময়ে বাজারজাত করতেও এলাকাবাসীকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। অল্প সময়ে দ্রুত পণ্যগগুলো বাজারজাত করতে এলাকাবাসীর দাবী দ্রুত ব্রীজের পূর্ব প্রান্তের অধি গ্রহণকৃত রাস্তার জমি দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করে ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, ব্রীজের পূর্ব প্রান্ত হতে শাকদহা বিলের মধ্যভাগ দিয়ে বড়বিলার ঈদগাহ হয়ে কলারোয়া সড়কে মিলিত হয়েছে। ব্রীজের কাছাকাছি রাস্তার জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে মৎস্যঘেরে রূপান্তির করেছে। বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষিপণ্যের মানোন্নয়ন ও তা সুষ্ঠু ভাবে বাজারজাত করতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করলেও সুদুর পাকিস্তান আমলে নির্মিত ব্রীজটির সংষ্কারে দীর্ঘ দিনেও নজর পড়েনি কারো।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ জানিয়েছেন, কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে উক্ত ব্রীজ সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হবে বলে আশ্বস্ত করেন ।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …