Breaking News
Home / সারাদেশ / বরিশাল / পটুয়াখালী / গলাচিপায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মরহুম সালাউদ্দিন আহম্মেদের আজ ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী

গলাচিপায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মরহুম সালাউদ্দিন আহম্মেদের আজ ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী

জসিম উদ্দিন, ষ্টাফ রিপোর্টার
শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথম মেয়াদে সরকার গঠনের পর একবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গলাচিপা আসবেন। চারদিকে সাজ সাজ রব। জননেত্রীকে আবেগ-ভালবাসায় বরণ করে নিতে সবাই উদগ্রীব। আওয়ামী নেতা-কর্মীরা কোথাও কোন ঘাটতি রাখবেন না। সব নেতা-কর্মী সামর্থ্যের শতভাগ দিয়ে জাহাঙ্গীর ভাইয়ের নেতৃত্বে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। গলাচিপা কলেজ মাঠে মঞ্চ নির্মাণ এবং সভাস্থল প্রস্তুতির কাজও এগিয়ে চলছে রাত-দিন পুরোদমে। রাত জেগেও করা লাগছে সেই কাজ। সালাহ্ উদ্দীন দা ছিলেন এই কাজের অন্যতম সমন্বয়ক। হঠাৎ দেখলেন রাত-দিন নেতা-কর্মীরা এই কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। কাউকে কিছু না বলে সালাহ্ উদ্দীন দা বাসায় চলে গেলেন। নিজের বাসার ফ্রিজটি খাবারে ভর্তি করে ভ্যানে উঠিয়ে চলে আসলেন কলেজে। কলেজের প্রশাসনিক ভবনে ফ্রিজটি রেখে তাতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিয়ে কর্মরত নেতা-কর্মীদের ডাক দিয়ে বললেন “ফল আছে, ঠান্ডা পানি আছে, সেভেন আপ আছে, পিঠা আছে, মাংস আছে। যার যা লাগে খানা-পিনা চলুক, কাম-কাইজও চলুক”। আমরণ এমনই কর্মীবান্ধব নেতা ছিলেন বড় অকালে হারিয়ে যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহ্ উদ্দীন দা। আমরণ মুজিব আদর্শে অবিচল থেকে রাজপথে বিচরণ করে গিয়েছেন তিনি। স্বৈরাচারবিরোধী উত্তাল আন্দোলনে গলাচিপার রাজপথ দিনরাত যে কয়জন সরব রেখেছেন তাঁদের মধ্যে সালাহ্ উদ্দীন দা অন্যতম। হামলা-মামলা-রক্তচক্ষু কোনকিছুকেই ভয় পাননি তাঁরা। ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের সময় মাগুরা উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে আন্দোলন সারা বাংলায় দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ে, সালাহ্ উদ্দীন দা গলাচিপার রাজপথে সেই আন্দোলনের একেবারে সামনের সারিতে ছিলেন। তখন সন্ধ্যার পরে প্রায়ই মশাল মিছিল হত। বড়-সড় একটি মশাল নিয়ে হাফ শার্ট ও জিন্সের প্যান্টটা পড়ে সালাহ্ উদ্দীন দা থাকতেন সবার সামনে। গলাচিপায় তখন আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে পুরো রাজপথ থাকত আওয়ামী নেতা-কর্মীদের দখলে। পুরো গলাচিপা তখন মুখরিত “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু”, “শেখ শেখ শেখ মুজিব, লও লও লও সালাম”, “আমরা সবাই মুজিব সেনা, ভয় করিনা বুলেট-বোমা”, “শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই” ইত্যাদি স্লোগানে। গণবিরোধী কার্যক্রমের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতাল সফল করার জন্য সালাহ্ উদ্দীন দা অতন্দ্র প্রহরীর মত রাজপথ সামলাতেন। গলাচিপায় যত গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে বেঁচে থাকতে তার সবগুলোতেই বুক চিতিয়ে সামনের সারিতেই থেকেছেন প্রিয় সালাহ্ উদ্দীন দা। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অতি অকালে সালাহ্ উদ্দীন দা চলে গেলেন। মৃত্যুর মাস তিন-চারেক আগে একবার ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিউটে ভর্তি ছিলেন। সেখানে দেখা হলে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন “ব্যাডা, শেখ মুজিবের কর্মী আছিলাম। আর এখন হাসিনার কর্মী আছি। এইয়্যার চাইতে বেশি কিছু আমার লাগবে না।” আসলেই দাদা আপনি ঠিকই বলেছিলেন। আপনি মুজিব আর হাসিনার গর্বিত-একনিষ্ঠ-নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন আমরণ। এর চেয়ে বড় গর্বের বিষয় আর কি হতে পারে! আপনার বুকে ছিল মুজিব আদর্শ, আপনার মুখে ছিল জয় বাংলা স্লোগান আর আপনার বিচরণ ছিল আওয়ামী নেতা-কর্মীদের নিয়ে গলাচিপার অগ্নি ঝরা রাজপথে। আপনার স্মৃতি অমলিন প্রিয় সালাহ্ উদ্দীন দা। জীবন নদীর ঐ পাড়ে ভাল থাকুন সালাহ্ উদ্দীন দা। আপনার জন্য সংগ্রামী ভালবাসা ও অভিবাদন। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথম মেয়াদে সরকার গঠনের পর একবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গলাচিপা আসবেন। চারদিকে সাজ সাজ রব। জননেত্রীকে আবেগ-ভালবাসায় বরণ করে নিতে সবাই উদগ্রীব। আওয়ামী নেতা-কর্মীরা কোথাও কোন ঘাটতি রাখবেন না। সব নেতা-কর্মী সামর্থ্যের শতভাগ দিয়ে জাহাঙ্গীর ভাইয়ের নেতৃত্বে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। গলাচিপা কলেজ মাঠে মঞ্চ নির্মাণ এবং সভাস্থল প্রস্তুতির কাজও এগিয়ে চলছে রাত-দিন পুরোদমে। রাত জেগেও করা লাগছে সেই কাজ। সালাহ্ উদ্দীন দা ছিলেন এই কাজের অন্যতম সমন্বয়ক। হঠাৎ দেখলেন রাত-দিন নেতা-কর্মীরা এই কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। কাউকে কিছু না বলে সালাহ্ উদ্দীন দা বাসায় চলে গেলেন। নিজের বাসার ফ্রিজটি খাবারে ভর্তি করে ভ্যানে উঠিয়ে চলে আসলেন কলেজে। কলেজের প্রশাসনিক ভবনে ফ্রিজটি রেখে তাতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিয়ে কর্মরত নেতা-কর্মীদের ডাক দিয়ে বললেন “ফল আছে, ঠান্ডা পানি আছে, সেভেন আপ আছে, পিঠা আছে, মাংস আছে। যার যা লাগে খানা-পিনা চলুক, কাম-কাইজও চলুক”। আমরণ এমনই কর্মীবান্ধব নেতা ছিলেন বড় অকালে হারিয়ে যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহ্ উদ্দীন দা। আমরণ মুজিব আদর্শে অবিচল থেকে রাজপথে বিচরণ করে গিয়েছেন তিনি। স্বৈরাচারবিরোধী উত্তাল আন্দোলনে গলাচিপার রাজপথ দিনরাত যে কয়জন সরব রেখেছেন তাঁদের মধ্যে সালাহ্ উদ্দীন দা অন্যতম। হামলা-মামলা-রক্তচক্ষু কোনকিছুকেই ভয় পাননি তাঁরা। ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের সময় মাগুরা উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে আন্দোলন সারা বাংলায় দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ে, সালাহ্ উদ্দীন দা গলাচিপার রাজপথে সেই আন্দোলনের একেবারে সামনের সারিতে ছিলেন। তখন সন্ধ্যার পরে প্রায়ই মশাল মিছিল হত। বড়-সড় একটি মশাল নিয়ে হাফ শার্ট ও জিন্সের প্যান্টটা পড়ে সালাহ্ উদ্দীন দা থাকতেন সবার সামনে। গলাচিপায় তখন আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে পুরো রাজপথ থাকত আওয়ামী নেতা-কর্মীদের দখলে। পুরো গলাচিপা তখন মুখরিত “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু”, “শেখ শেখ শেখ মুজিব, লও লও লও সালাম”, “আমরা সবাই মুজিব সেনা, ভয় করিনা বুলেট-বোমা”, “শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই” ইত্যাদি স্লোগানে। গণবিরোধী কার্যক্রমের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতাল সফল করার জন্য সালাহ্ উদ্দীন দা অতন্দ্র প্রহরীর মত রাজপথ সামলাতেন। গলাচিপায় যত গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে বেঁচে থাকতে তার সবগুলোতেই বুক চিতিয়ে সামনের সারিতেই থেকেছেন প্রিয় সালাহ্ উদ্দীন দা। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অতি অকালে সালাহ্ উদ্দীন দা চলে গেলেন। মৃত্যুর মাস তিন-চারেক আগে একবার ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিউটে ভর্তি ছিলেন। সেখানে দেখা হলে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন “ব্যাডা, শেখ মুজিবের কর্মী আছিলাম। আর এখন হাসিনার কর্মী আছি। এইয়্যার চাইতে বেশি কিছু আমার লাগবে না।” আসলেই দাদা আপনি ঠিকই বলেছিলেন। আপনি মুজিব আর হাসিনার গর্বিত-একনিষ্ঠ-নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন আমরণ। এর চেয়ে বড় গর্বের বিষয় আর কি হতে পারে! আপনার বুকে ছিল মুজিব আদর্শ, আপনার মুখে ছিল জয় বাংলা স্লোগান আর আপনার বিচরণ ছিল আওয়ামী নেতা-কর্মীদের নিয়ে গলাচিপার অগ্নি ঝরা রাজপথে। আপনার স্মৃতি অমলিন প্রিয় সালাহ্ উদ্দীন দা। জীবন নদীর ঐ পাড়ে ভাল থাকুন সালাহ্ উদ্দীন দা। আপনার জন্য সংগ্রামী ভালবাসা ও অভিবাদন।

Check Also

রাঙ্গাবালীতে করোনা ভাইরাস-জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা-ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয় …